মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে টম হল্যান্ড অভিনীত চরিত্রটিকে প্রায় এক দশক ধরে বড় পর্দায় দেখছে দর্শক। এই সময়ের মধ্যে স্পাইডারম্যান অন্যান্য জগতের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, অ্যাভেঞ্জার্স দলের সঙ্গে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং অনেক আপনজনকে চিরতরে হারিয়েছে। তবে নতুন কিস্তি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ দর্শকের জন্য ভিন্ন কিছু নিয়ে এসেছে। ৩১ জুলাই মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে টম হল্যান্ড এবং জেন্ডায়া ছাড়াও ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-খ্যাত স্যাডি সিঙ্ক ও ‘দ্য বেয়ার’-এর লিজা কোলন-জায়াসকে দেখা যাচ্ছে। বড় চমক হিসেবে অভিনয় করেছেন ফ্লোরেন্স পিউ, মার্ক রাফালো এবং জন বার্নথালের মতো তারকারা।
যারা সরাসরি এই ছবি দিয়ে স্পাইডারম্যানের জগতে পা রাখতে চান, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনাবলি জানা প্রয়োজন। প্রথমত, পিটার পার্কারের পরামর্শদাতা ছিলেন টনি স্টার্ক, অর্থাৎ আয়রন ম্যান। ২০১৬ সালের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’-এ টনি কিশোর পিটারকে খুঁজে পেয়ে অ্যাভেঞ্জার্সদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেন। তিনিই শিখিয়েছিলেন যে, বাহ্যিক পোশাক নয়, পোশাকের অন্তরালের মানুষই প্রকৃত নায়ক। ২০১৯ সালে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এ পৃথিবী রক্ষার আত্মত্যাগ করেন টনি; তার অসমাপ্ত অভিযানের দায়িত্ব বহন করতে শুরু করে পিটার।
দ্বিতীয়ত, পুরোনো এক প্রতিপক্ষের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। ২০১৭ সালে ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’-এ পিটার ম্যাক গারগান নামের এক অপরাধীর অবৈধ অস্ত্রের বাণিজ্য বান্ধ করে তাকে জেলে পাঠায়। প্রায় এক দশক পর গারগান এবার ভয়ংকর সুপারভিলেন ‘স্করপিয়ন’ রূপে ফিরছে। তৃতীয়ত, আসল পরিচয়ের ফাঁস একটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। ২০১৯-এর ‘ফার ফ্রম হোম’-এ মিস্টেরিও নামের এক ভিলেন ড্রোন হামলার জন্য পিটারকে দায়ি করে এবং পুরো দুনিয়ার সামনে প্রকাশ করে যে পিটারই স্পাইডারম্যান। এতে তার, এমজে, নেড ও আন্ট মে এর জীবন আমূল বদলে যায়।
এই সংকটে পিটার ডক্টর স্ট্রেঞ্জের কাছে গিয়ে সকলের স্মৃতি থেকে তার আসল পরিচয় মুছে দিতে বলে। কিন্তু জাদু চলাকালে পিটার বারবার শর্ত পরিবর্তন করায় জাদুটির সূত্র ভেঙে যায়, যার ফলে মাল্টিভার্সের সব ভয়ংকর ভিলেন পৃথিবীতে চলে আসে। পঞ্চমত, পিটার ভিলেনদের হত্যা না করে তাদের পরিার করার চেষ্টা করলে গ্রিন গবলিন আন্ট মে-কে খুন করে। মৃত্যুর মুহূর্তে আন্ট মে পিটারকে শিখিয়ে যান, ‘বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্ব আসে’ – এই শিক্ষাই তাকে প্রকৃত সুপারহিরো হিসেবে গড়ে তোলে।
ষষ্ঠত, অন্য জগতের টোবি ম্যাগুইয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের স্পাইডারম্যান এই বাস্তবতায় এসে টম হল্যান্ডের পিটারের সাথে মিলিত হন। তারা তিনজন মিলে ভালোবাসা ও মায়ার মাধ্যমে ভিলেনদের ভালো মানুষে রূপান্তরিত করেন। তারা পিটারকে বোঝান, প্রতিশোধ নয়, বরং মানুষের পাশে থাকাই আসল বীরের কাজ। সর্বশেষ, ভিলেনদের পরিত্রাণের পরও মহাবিশ্ব ধ্বংসের ঝুঁকি টিকে থাকলে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ একটিমাত্র সমাধান বের করেন: এমন একটি জাদু যা পুরো পৃথিবীর সকল মানুষের স্মৃতি থেকে পিটার পার্কারকে মুছে দেবে। মহাবিশ্বের স্বার্থে পিটার এই কঠিন ত্যাগ মেনে নেন। ফলস্বরূপ, তার বান্ধবী এমজে সহ সব প্রিয়জন তাকে পুরোপুরি ভুলে যায়। সব হারিয়ে সম্পূর্ণ একা পিটার একটি সাধারণ ঘরে হাতের তৈরি নতুন পোশাকে পরবর্তী অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়।



