মার্কিন ব্লগার পেরেজ হিলটন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। টিকটকে লাইভ সম্প্রচারের সময় তিনি নিজের ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠলে দর্শকরা পুলিশে খবর দেন। মঙ্গলবার মিয়ামির বাসভবনে তার কাছে জরুরি সেবা পাঠানো হয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষতির ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন বলে খবর পাওয়ার পর তাঁদের দল সেখানে যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ আরও জানায়, সংকট মোকাবিলা ইউনিট ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা পরিবারকে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছেন। হিলটনের আসল নাম মারিও লাভান্ডেইরা। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, লাইভস্ট্রিমের সময় তিনি বাসায় একা ছিলেন। ঘটনার পরপরই তার টিকটক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। মিয়ামি শেরিফ অফিস বিবৃতিতে হিলটনের নাম উল্লেখ না করলেও নিশ্চিত করেছে যে তারা নিজের ক্ষতি করা এক ব্যক্তির বিষয়ে খবর পেয়ে সেখানে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর ডেপুটিরা ‘কৌশলে দূরত্ব বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা বা নিজের ক্ষতি করছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সময়, দূরত্ব ও যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। যদি অন্যদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি না থাকে, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংকট হস্তক্ষেপ কৌশল প্রয়োগ করে পুলিশের গুলিতে আত্মহত্যার মতো ঘটনা এড়ানো যায়। পরবর্তী আপডেটে শেরিফ অফিস জানায়, ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছেন। বিবিসি নিউজ হিলটনের প্রতিনিধি, টিকটক ও মিয়ামি পুলিশের কাছে মন্তব্য চেয়েছে। হিলটনের ব্যবস্থাপক দান্তে রুশিওলেলি ও রেবেকা কোচান যৌথ বিবৃতিতে জানান, তাঁরা ক্লায়েন্টের বিষয়ে উদ্বেগজনক বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত। তবে এখনো তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেননি। তাঁরা হিলটনের স্বাস্থ্য ও পরিবারের মঙ্গলকেই সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অনুমান করতে চান না। সকলের উদ্বেগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁরা এই সময়ে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করেন। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে নিজের জনপ্রিয় ও বিতর্কিত সেলিব্রেটি গসিপ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন হিলটন। প্যারিস হিলটনের নামের সঙ্গে মিল রেখে মঞ্চনাম ‘পেরেজ হিলটন’ বেছে নেন তিনি। তার প্রায়শই বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য মাইলি সাইরাস, ক্লো কার্দাশিয়ান, মিলা কুনিস ও সাবেক বন্ধু লেডি গাগার মতো সেলিব্রিটিদের কাছ থেকে সমালোচনার শিকার হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজের প্রাথমিক ক্যারিয়ারের কটূক্তিমূলক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং অনলাইন সংস্কৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের ব্র্যান্ড পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। তিনি এখন আরও সদয় ও পরিবার-বান্ধব ব্যক্তিত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পিতৃত্বকে আলিঙ্গন করেছেন—সারোগেসির মাধ্যমে তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ২০২০ সালের স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ‘আমার অনেক আফসোস আছে, বিশেষ করে এখন বুঝতে পারি আমার এত নিষ্ঠুর বা নির্দয় হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমি যেসব বিষয়ে আফসোস করি তার একটি হলো আমি অনেক লোককে কটূক্তি ডাকনাম দিয়ে কষ্ট দিয়েছি এবং সবচেয়ে বড় কথা, আমি সেলিব্রিটিদের সন্তানদের প্রতি নির্দয় ছিলাম।’ হিলটন এখনও তার অনলাইন ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং সাপ্তাহিক পডকাস্টের মাধ্যমে শোবিজ সংবাদ কভার করে চলেছেন।