ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিন অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বরাবরই প্রতারিত হয়েছে।’ এনটিভিতে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া রাকেশ বসু পরিচালিত ধারাবাহিক ‘চাওয়া পাওয়া’র প্রচার উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে মানজুর কাদেরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হতাশার কথা বলেন।
নাটক প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তার সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো দর্শক এই কাজটি পছন্দ করবেন এবং দেখবেন। আর সেটাই হবে তার সবচেয়ে বড় পাওয়া, যখন মানুষ নাটকটিকে ভালোবেসে আপন করে নেবেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে ফোন নম্বর বদলানোর প্রসঙ্গে মম বলেন, ১৫-১৬ বছর ধরে ব্যবহৃত আগের নম্বরটি উবার-পাঠাওসহ নানান জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় অপ্রত্যাশিত কল ও মেসেজের কারণে বিরক্তি বোধ করতেন। তাই নতুন নম্বর নিয়ে এখন তিনি স্বস্তিতে রয়েছেন, কারণ তার মনে হয়, যাদের সাথে তার কাজের সম্পর্ক বা প্রয়োজন, শুধু তাদের সঙ্গেই সংযুক্ত থাকলেই চলে।
হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল ছবিতে তাকে ঘোড়ার পিঠে দেখতে পাওয়ার প্রসঙ্গে মম ব্যাখ্যা করেন, এটি কোনো শুটিংয়ের অংশ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি নিজের একটি কল্পনাকে রূপ দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তার দুটি ঘোড়া থাকার স্বপ্ন ছিল, যার একটির পিঠে তিনি চড়বেন, অন্যটি কাউকে দিয়ে দেবেন। এই স্বপ্ন থেকে তিনি এআইয়ে তৈরি ঘোড়ার নাম রেখেছেন ‘শামস’। বাস্তবে দুটি ঘোড়া পেলে তিনি সেগুলো পুষে রাখবেন এবং মাঝেমধ্যে তার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াবেন বলে মজা করে জানান।
জীবনদর্শন নিয়ে আলাপকালে জাকিয়া বারী মমি বলেন, “জীবন সিম্পল, জীবন সুন্দর—এটাকে কখনো জটিল করে তোলো না।” তার মতে, মানুষের নিজের কারণেই জীবন জটিল হয়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকের মস্তিষ্ক একেকটি পৃথিবী, আর সেই পৃথিবী আবর্জনামুক্ত রাখাই হলো সুন্দর জীবনের চাবিকাঠি। যেমন শারীরিক সুস্থতা খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে, তেমনি মনের সুস্থতা নির্ভর করে আমরা কী গ্রহণ করি তার উপর। তিনি সব সময় বিষাক্ততাকে দূরেই রাখতে চান, কারণ ‘মুহূর্তটাই সত্য’।
নিজেকে তিনি ‘জীবন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, জীবন নিজেই নানা সময় নানা শিক্ষা দিয়েছে। অতীতে আফসোস না করে তিনি খারাপ সময়কেও ধন্যবাদ জানান, কারণ অন্ধকারের প্রয়োজনীয়তাই আলোর গুরুত্বকে বোঝায়। তিনিরে স্পষ্ট মতে, একমাত্র কাজই সত্য এবং বর্তমানে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন তিনি, যা মহান মনীষীরাও বলে গেছেন। নিজেকে তিনি নিজেরই সেরা সঙ্গী মনে করেন, যদিও মনে করেন তিনি কখনো একা নন, বরং সব সময় স্রষ্টার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সোচ্চার হয়ে ওঠার কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে মম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার মরে যাওয়ার দৃশ্য আমি মেনে নিতে পারিনি।’ তার প্রশ্ন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ থাকতে কেন দেশের মানুষকে যুদ্ধের মতো করে মরতে হলো? তিনি শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা ভারতের আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে সরকারের পটপরিবর্তনের চেষ্টা হলেও গুলি করে মানুষ মারার মত ঘটনা ঘটেনি।
মমর বক্তব্য, ‘আমরা রাজনীতি না বুঝলেও সাধারণ মানুষ হিসেবে ছাত্রদের ওপর গুলি চলতে দেখে রাস্তায় নেমেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে যেখানে পাকিস্তানি মিলিটারি শত্রু হিসেবে গুলি চালিয়েছিল, সেখানে নিজের স্বাধীন দেশে সরকার আর ছাত্র-জনতা কীভাবে পরস্পরের শত্রু হতে পারে—এই প্রশ্নই তাকে প্রতিবাদী করেছিল।’ তিনি মন্ত্রণা প্রকাশ করেন যে, সেদিন হাজারো মানুষের মতো যারা রাস্তায় নেমেছিল, তারা সবারই ভালো কিছু হবে বলে আশা ছিল।
দুই বছর পর সেই স্বপ্ন পূরণের হিসেব নিয়ে তিনি দাখিনা প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু আমরা বরাবরের মতোই সেই সম্ভাবনাকে নেগেটিভভাবে ব্যবহার করেছি। চাওয়া থেকে যে আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলাম, পাওয়ার হিসাব মেলেনি।’ সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ দেশের মম্মর্ষূ চিকিৎসাব্যবস্থা ও ভেজাল খাবারের মধ্যদিয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য, অথচ আমাদের জটিলতা সৃষ্টির কারণেই দেশের অবস্থা শোচনীয়। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির নিষ্ঠুরতায় তার বাংলাদেশের জন্য মায়া হয়।




