যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত এক শিক্ষকের অভিজ্ঞতা বলছে, দেশটির স্কুলগুলোতে শিশু-কিশোরদের মধ্যে নিজেদের জিনিসপত্র হারানোর ঘটনা এক মহামারির আকার ধারণ করেছে। তিনি লিখেছেন, শৈশবে পানি অপচয় করলে বাড়িতে বকুনি খেতে হতো বলে স্মরণ করেন। তখন অপচয়ের বিপরীতে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হতো, বিলের টাকার চিন্তা থেকে নয়। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে জিনিসপত্রের প্রতি দায়িত্ববোধের অভাব প্রকট।

কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই তাদের জ্যাকেট, সোয়েটার, ক্যাপ, পানির বোতল অথবা লাঞ্চ ব্যাগ কোথাও না কোথাও ফেলে আসে। স্কুলের মাঠে খেলার সময় গরম লাগলে তারা সহজেই ওপরের পোশাক খুলে ফেলে ঘাসের ওপর বা 'মাংকি-বারে' রেখে দেয়। বিরতির পর সেই পোশাক আর খুঁজে পাওয়া যায় না। একইভাবে লাঞ্চ বক্স, গ্লাভস, লাইব্রেরির বই এমনকি চশমাও হারানোর ঘটনা নিত্যদিনের।

শিক্ষকদের পক্ষে ক্লাসরুমে গোছানো অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য নানা নিয়ম থাকলেও শেষ বেলায় নিজের জিনিসপত্র বাড়ি নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া ভুলে গেলে ডেস্কে, চেয়ারে পড়ে থাকে নানা সামগ্রী। এর ফলে ক্লাসরুম অপরিপাটি হয়ে পড়ে এবং শিক্ষকদের অতিরিক্ত সময় ও পরিশ্রম ব্যয় করতে হয়। অভিভাবকেরাও ই-মেইল বা সরাসরি এসে হারানো জিনিসপত্র খোঁজেন, যা শিক্ষকদের জন্য আরেকটি বাড়তি দায়িত্ব।

স্কুল পরিষ্কারের কর্মীরাও প্রতিদিন আবর্জনা, ঝরা পাতা ও হারানো পোশাক সরিয়ে থাকেন। লেখক জানান, এটি শুধু তার স্কুলের সমস্যা নয় বরং সার্বিক একটি ব্যাপার। তাই প্রায় প্রতিটি স্কুলেই আলাদা 'লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড' কেন্দ্র রয়েছে। অনেক শিক্ষক নিজ ক্লাসের কোণায় ছোট করে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড তৈরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি না আসা জিনিসপত্র স্কুল নীতি অনুযায়ী দাতব্য সংস্থায় দান করা হয়।

একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, তিনি একবার একটি খালি খাঁচাও উদ্ধার করেছেন। তার মতে, সোয়েটশার্টই সবচেয়ে বেশি হারানো জিনিস। তবে কিছু কিছু ছাত্র-ছাত্রী অত্যন্ত গোছালো এবং পরিপাটি। তাদের অভিভাবকরা পোশাকের ট্যাগে নাম লিখে রাখেন, যা জিনিসপত্র ফিরে পেতে সহায়তা করে। শিক্ষকের মতে, বাড়িতে জবাবদিহিতার অভাব এবং পরিণাম বোঝানোর ব্যবস্থা না থাকাই এই সমস্যার মূল কারণ।

শিক্ষকের কণ্ঠে আক্ষেপ, 'ম্যাক্স' বা 'মেলিসা'র হারানো জিনিস খুঁজতে ব্যস্ত থাকলে তাদের শিক্ষার জন্য সময় কোথায়? তিনি মনে করেন, পিতামাতার দায়িত্ব সন্তানদের নিজেদের জিনিসের দেখভাল করার শিক্ষা দেওয়া, যা ছাড়া স্কুলের প্রচেষ্টা অর্ধেক থেকে যায়।