ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে পৌঁছালে ছাদে রক্তাক্ত অবস্থায় এক শিশুর মরদেহ দেখতে পান যাত্রীরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিশুটির নাম নিরব হোসেন (১১)। সে বগুড়ার ধুনট উপজেলার কুলাগাতি গ্রামের মৃত ভিরু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের ওপরের কোনো সেতু বা স্থাপনার সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এ আঘাত লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে তদন্তকারীরা।
ওসি আরও জানান, নিহত নিরবের পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় এবং পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর ছাদে ওঠার সময় কয়েকজন যাত্রী মরদেহটি দেখতে পান। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে ছাদের ওপর পড়ে থাকতে দেখে তারা চিৎকার দিলে অন্য যাত্রীরা এগিয়ে আসেন। স্টেশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দ্রুত রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ট্রেনের ছাদে কেন এবং কীভাবে শিশুটি উঠেছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আইন অনুযায়ী ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীরা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে থাকেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই মৃত্যুর ঘটনা আবারও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিপদ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।




