ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপে এখন গোটা বাংলাদেশ। দল আর পতাকার রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে শহর-গ্রাম। যারা গতবার হেরে খেলা দেখা বন্ধ করার শপথ করেছিল, তারাও এখন জার্সি কিনে আনছে। একই ফ্ল্যাটে উড়ছে পাঁচ-ছয় রকমের পতাকা। ভাই-বোনের মধ্যেও নেই কোনো মিল—একই ঘরে দুই দল সামলানো দায়। মা-বাবার সমর্থিত দল হারা মানেই অশ্রু আর কান্না, অন্যদিকে আব্বুর খুশি দেখে রান্নাও বাতিল হয়ে যায়।

স্কুল-কলেজের ক্লাসরুম থেকে ক্যান্টিন—সবখানেই চলছে কার দল জিতবে আর কার দল হারবে, সেই জরিপ। বাজার, ফুটপাত, পার্ক—সব জায়গায় ফুটবল ছুটছে, যেন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যে দিন যে দলের খেলা, সেদিন সে-ই টিভি আর রিমোটের একচ্ছত্র অধিপতি। এই ফুটবল উৎসবে কেউ কেউ আবার চুপচাপ পপকর্ন আর কফি খেয়ে সময় কাটাচ্ছে, অনেকে আবার সেভেন আপও খাচ্ছে না।

অনেকেই বলছেন, বিশ্বকাপ দেখার আগ্রহ নেই, বরং সন্ধ্যা হলেই ঘুম আসে। কিন্তু স্বপ্নেও তারা বল নিয়ে দৌড়ায়। ঘুম ভেঙে খোঁজে রেফারি আর কোচকে। জানালায় কিক মেরে অনেকে পায়ে চোটও পেয়েছেন। এই উন্মাদনার মাঝে ঈদের পরিকল্পনাও এখন বিশ্বকাপকে ঘিরেই।