সদ্যসমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কার বিতরণে স্পেনের কর্তৃত্ব ছিল স্পষ্ট। চোখ ধাঁধানো কোনো ড্রিবল বা গোলের বাহুল্য না থাকলেও, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে স্পেনের প্রতিটি সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মিডফিল্ডার রদ্রি। বিশেষত ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনি যে নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন, তার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা নিজের গোল্ডেন বলের সংগ্রহে যোগ করলেন আরেকটি সর্বোচ্চ সম্মাননা।

স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন তুলে নিয়েছেন গোল্ডেন গ্লাভ। আসরটিতে তিনি মাত্র একটি গোল হজম করে সাতটি ক্লিন শিট রাখেন। এর মাধ্যমে টানা ৬৪৯ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রাখার এক নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ডও গড়েছেন বিলবাওয়ের এই গোলরক্ষক। স্পেনের রক্ষণভাগের তরুণ স্তম্ভ, মাত্র ১৯ বছর বয়সী বার্সেলোনার ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি পেয়েছেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে টানা দ্বিতীয়বার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ১০টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি শেষ করেন আসর। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একক আসরে ১০ গোলের এক বিরল কীর্তি, যা সর্বশেষ ১৯৭০ সালে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার করেছিলেন। এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে গেছেন, ছাড়িয়ে গেছেন লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ডকে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হারের দিনেও জোড়া গোল করে এই পুরস্কার প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন তিনি।

ফাইনালে নেমে মেসির সুযোগ ছিল এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পা থেকে কোনো গোল বেরোয়নি। ফলে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় সিলভার বুটে। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম ৭ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করে পেয়েছেন ব্রোঞ্জ বুট। নরওয়ের আর্লিং হলান্ডেরও গোলসংখ্যা ৭, তবে অ্যাসিস্টে পিছিয়ে থাকায় তিনি পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হন।

৪৮ দলের এই আসরে ফিফা একটি নতুন রীতি চালু করে। চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলকে দেওয়া হয় বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং। পাশাপাশি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি ডলার প্রাইজমানিও তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে।