এইচবিওর নতুন সুপারহিরো নাটক ‘ল্যান্টার্নস’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রথম পর্ব দেখে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় তা মিশ্র। কাইল চ্যান্ডলারের অভিনীত হ্যাল জর্ডান — পৃথিবীর একমাত্র গ্রিন ল্যান্টার্ন — তার ভ্রু-এর নাটকীয় অভিব্যক্তির মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। তবে শুধু ভ্রু-এর ক্যারিশমায় সিরিজটি কতদূর এগোবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রথম পর্বটি দেখে যা বোঝা যায়, এটি ‘ট্রু ডিটেকটিভ’-এর সঙ্গে তুলনা করার মতো নয়। সেই বিখ্যাত সিরিজের প্রথম পর্বেই দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে দেওয়ার মতো অন্ধকার, রহস্যময় পরিবেশ ছিল — দক্ষিণের জলাভূমি, আতঙ্ক আর এক ভয়ংকর অপরাধের দৃশ্য। অন্যদিকে ‘ল্যান্টার্নস’-এর শুরুটা অনেকটাই এলোমেলো। ১৯৯৬ সালে একটি পরিবারকে দেখানো হয়, যেখানে তরুণ জন স্টুয়ার্ট টেলিভিশনে হ্যাল জর্ডানের খবর দেখছে। বাবার আগমনে টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর বাবা ছেলেকে আপেলের ওপর গুলি করার অনুশীলন দেখান। এই দৃশ্যটি চরিত্রগুলোর পরিচয় দেওয়ার জন্য অদ্ভুত হলেও মনে দাগ কাটে।

২০ বছর পরের ঘটনায় জন স্টুয়ার্ট (অ্যারন পিয়ের) এখন হ্যাল জর্ডানের অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। দুই চরিত্রের মধ্যে পারস্পরিক টানাপোড়েন স্পষ্ট, কিন্তু তাদের মধ্যে তেমন সংলাপ বা রসিকতার অবকাশ নেই। হ্যাল প্রশিক্ষণের নামে জনকে একটি গাড়িতে বসিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দেয়, আর রিংয়ের সাহায্যে জন নিজেকে বাঁচায় — এই দৃশ্যটি দেখানো হয়নি, তবে পরে জানানো হয়। হ্যালের শিক্ষণপদ্ধতি অদ্ভুত, আর জনের মনে তার প্রতি ক্ষোভ জন্ম নেয়।

এরপর গল্প মোড় নেয় নেব্রাস্কার রাশভিলে — সেখানে একটি ফুটবল ম্যাচে গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। শেরিফ কেরি কেইন (কেলি ম্যাকডোনাল্ড) হ্যালের সঙ্গে আগের পরিচিত হলেও তাকে তদন্তে অংশ নিতে দিতে চান না। হ্যাল স্থানীয় বারে গিয়ে ঝগড়া বাঁধায় এবং জেলে গিয়ে আটক ‘অ্যালিয়েন’ সন্দেহভাজনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায়। পরে একটি রহস্যময় ব্যক্তি তার জামিনের ব্যবস্থা করে — উইলিয়াম ম্যাকন (গ্যারেট ডিলাহান্ট), যিনি আসলে শেরিফের শ্বশুর এবং একটি মিলিশিয়া বাহিনীর পরিচালক।

জন স্টুয়ার্ট রাতারাতি উইলিয়ামের স্ত্রী জো ম্যাকনের (পূর্না জগন্নাথন) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। হ্যাল জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায়, এবং সেই আটক ব্যক্তি সত্যিই একজন এলিয়েন হিসেবে প্রকাশ পায় — সে বিস্ফোরণের চেষ্টা করে, তবে হ্যাল রিংয়ের শক্তিতে তা প্রতিরোধ করে। এরপর গল্প ২০২৬ সালে লাফ দেয় — জন স্টুয়ার্ট তুষারঝড়ের মধ্যে রাশভিলে ফিরে আসে, ফুটবল স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখে হ্যাল জর্ডানের হিমায়িত মৃতদেহ বসে আছে।

এই প্রথম পর্বে ‘ট্রু ডিটেকটিভ’-এর মতো গাঢ় রহস্যের আবহ তৈরি হয়নি। গল্পের কাঠামোতে দুটি সময়রেখা রয়েছে, দুই ভিন্ন স্বভাবের গোয়েন্দা চরিত্র আছে, কিন্তু দর্শককে টেনে রাখার মতো তেমন কিছু নেই। স্রষ্টারা অবশ্য বলেছেন, ‘স্লো হর্সেস’, ‘ফার্গো’, ‘নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন’ — এমন অনেক বিখ্যাত কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম পর্বে সেই উচ্চতা স্পর্শ করা যায়নি।

অভিনয়ে কাইল চ্যান্ডলার তার চিরচেনা রসিক ও খিটখিটে ভঙ্গিতে ভালো করেছেন, অ্যারন পিয়েরের দৃষ্টিও তীক্ষ্ণ — কিন্তু চরিত্রগুলোর রসায়ন তেমন জমেনি। রিংয়ের জাদুকরি শক্তি নিয়ে গল্প তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত তা ‘ট্রু ডিটেকটিভ’-এর গভীরতার কাছে পৌঁছায়নি। প্রথম পর্ব শেষে কৌতূহল জাগলেও মনে হয় না — ‘এটাই তো দেখতে হবে’।

আগামী পর্বগুলোতে গল্পের বাঁক বদলাবে কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।