আমেরিকান স্বপ্ন বলতে সাধারণত যা বোঝানো হয় — স্থিতিশীল চাকরি, নিজের প্রথম বাড়ির চাবি, বিয়ে, দুই সন্তান এবং সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পদ সঞ্চয় — সেই চিরচেনা ছবিটির সাথে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বাস্তবতা হলো, বাড়ির দাম ক্রমাগত বাড়ছে, বিয়ে ও সন্তান ধারণের বয়স পিছিয়ে যাচ্ছে, আর ঐতিহ্যবাহী ক্যারিয়ারের সিঁড়িটিও আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা আগের প্রজন্মের লক্ষ্যগুলো পরিত্যাগ করেছে; বরং তারা সেগুলো অর্জনের জন্য নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছে — পুরনো বাড়ি কিনে ধাপে ধাপে সংস্কার করা, ৯টা-৫টার বাইরে অতিরিক্ত আয়ের ব্যবস্থা করা, আর সবকিছু একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করার বাধ্যবাধকতা না রাখা।

অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জেন জি-র অনেক সদস্য আশ্চর্যজনকভাবে আশাবাদী। আরবান ইনস্টিটিউটের জুলাই মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জেন জি প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন তাদের প্রজন্ম আগের প্রজন্মের তুলনায় কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। তবে ৫৬ শতাংশ মনে করেন আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে, এবং ৪২ শতাংশ মনে করেন তারা শেষ পর্যন্ত তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছাবেন।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলের রিয়েল এস্টেট ও অর্থসংস্থানের অধ্যাপক সুসান ওয়াচটার, যিনি এই সময়কালকে 'মহান স্থগিতকরণ' বলে অভিহিত করেছেন, তিনি বলেন যে তরুণরা কোথায় থাকবে, কীভাবে কাজ করবে এবং কখন পরিবার শুরু করবে — এই পরিবর্তনগুলো বিচ্ছিন্ন প্রবণতা নয়, বরং একই অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। ওয়াচটারের মতে, আজকের তরুণদের সামনে যে অর্থনৈতিক বাস্তবতা তা তাদের বাবা-মা বা বড় ভাইবোনদের সময়ের চেয়ে অনেক আলাদা। আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা এখানে প্রধান কারণ, তবে এর প্রভাব শুধু বাড়ি কেনার সামর্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

বাড়ির দাম ও আয়ের ব্যবধান দিন দিন বেড়েই চলেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করে বাড়ির গড় মূল্য ৩০ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০০ ডলার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ৪০ বছরের কম বয়সী গৃহকর্তাদের মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয়কৃত গড় আয় বেড়েছে মাত্র ৯ শতাংশ। ফলে ২০১৯ সালে ৪০ বছরের কম বয়সী ভাড়াটে পরিবারের ৫৬ শতাংশ বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখলেও ২০২৪ সালে সেই হার নেমে এসেছে ৩৭ শতাংশে। আর ৪০ বছরের কম বয়সী ৮৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এখন মনে করেন তাদের প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনা বাবা-মায়ের প্রজন্মের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

যারা এই বাজারচাপের মধ্যেও বাড়ি কিনতে পারছেন, তাদের জন্য চাবি পাওয়াটাই যেন কাজের শুরু। ওয়াচটার উল্লেখ করেন, অনেক তরুণ ক্রেতা পুরনো এবং সংস্কারযোগ্য বাড়ি বেছে নিয়ে নিজেদের সময় ও শ্রম দিয়ে সেগুলো উন্নত করছেন, অথবা খরচ কমাতে বাড়ির কিছু অংশ ভাড়া দিচ্ছেন। টিডি ব্যাংকের মে মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে প্রথম বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা অর্ধেকের বেশি আমেরিকান সংস্কারযোগ্য বাড়ি কিনতে আপত্তি করবেন না। আবাসন সংকট সত্ত্বেও ৮১ শতাংশ মানুষ আবাসন বাজার নিয়ে আশাবাদী এবং বাড়ির মালিকানাকে দীর্ঘমেয়াদি স্মার্ট বিনিয়োগ মনে করেন।

এই প্রবণতা দেশের সবচেয়ে বড় গৃহস্থালি উন্নয়ন খুচরা বিক্রেতা হোম ডিপোর বিক্রিতেও দেখা যাচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রাহকরা ছোট মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও বড় সংস্কারের চাহিদা কমেছে। টাস্কর্যাবিটের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ক্রিস অ্যাগার জানান, তরুণ গ্রাহকরা দূরে সরে না গিয়ে ছোট বা বেশি কাজের প্রয়োজন হয় এমন বাড়ি বেছে নিচ্ছেন। তারা ধাপে ধাপে সংস্কার করছেন, নিজেরা কিছু কাজ করছেন এবং বাজেট অনুযায়ী বাকি কাজের জন্য টাস্কার নিয়োগ করছেন। টাস্কর্যাবিটে আসবাবপত্র একত্রিতকরণ, মাউন্টিং, মুভিং ও পরিষ্কারের কাজ সবচেয়ে জনপ্রিয়, তবে উঠানের কাজ ও বাইরের রক্ষণাবেক্ষণ এই বছর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

কর্মজীবনও এখন আগের মতো সরল রেখায় চলছে না। ২০২৬ সালের লেন্ডিংট্রি জরিপ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৪৩ শতাংশ জেন জি প্রাপ্তবয়স্কের একটি সাইড হাস্টল আছে। খাদ্য ও মুদি ডেলিভারি, রাইডশেয়ারিং, বেবিসিটিং বা পোষা প্রাণীর দেখাশোনার মতো কাজ সবচেয়ে সাধারণ। টাস্কর্যাবিটে অনেক তরুণ পূর্ণ-সময়ের আয়ের উৎস হিসেবেও কাজ করছেন, আবার অনেকে পড়াশোনা বা অন্য কাজের পাশাপাশি আয়ের ফাঁক পূরণ করতে এটি ব্যবহার করছেন। অ্যাগার বলেন, জেন জি সম্প্রদায়ের মধ্যে অপ্রচলিত ক্যারিয়ার পথের প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সোফা চারতলা সিঁড়ি বেয়ে তোলা বা বেডরুমে রং করা এখনো মানুষের কাজ। টাস্কর্যাবিট তাদের ব্যবসাকে এআই-প্রতিরোধী বলেই মনে করে।

জীবনের ধাপগুলোও আর নির্দিষ্ট ক্রম মেনে চলছে না। ওয়াচটারের গবেষণায় দেখা গেছে, আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা তরুণদের বাবা-মায়ের সাথে বেশি দিন থাকতে, বিয়ে ও সন্তান ধারণ পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে। যেসব পরিবার আর্থিকভাবে সক্ষম, তারা সন্তানদের ডাউন পেমেন্টে সাহায্য করছে বা সঞ্চয়ের সময় থাকার জায়গা দিচ্ছে। টিডি ব্যাংকের জরিপে দুই-তৃতীয়াংশ সম্ভাব্য প্রথমবারের ক্রেতা পরিবার বা প্রিয়জনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন বা পাওয়ার আশা করছেন; জেন জি-দের মধ্যে এই হার ৭০ শতাংশ। তবে এই সমাধান সবার জন্য সহজলভ্য নয়। কারও বাবা-মার বাড়ি ভালো চাকরির বাজারের কাছে নাও থাকতে পারে, বা সেখানে জায়গা নাও থাকতে পারে। ওয়াচটার মনে করেন, এই সীমাবদ্ধতাগুলোই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ঐতিহ্যবাহী ধারাকে ভেঙে দিচ্ছে। তিনি বলছেন, "আমি মনে করি এটাই নতুন স্বাভাবিক।" আমেরিকান স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত ধাপে ধাপে নির্দেশিকা এখন অনেকটাই উপেক্ষিত হচ্ছে, এবং এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন।