রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর অলিউর রহমান ওরফে অলি (২৪) নামের এক অটোরিকশাচালকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় লাশটি পাওয়া যায় বলে জানানো হয়। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অলিউর পূর্ব বাড্ডার জোড়াখাম্বা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর আদি নিবাস কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর গ্রামে। তিনি মৃত আসাদ মিয়ার সন্তান। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার থেকে অলিউর নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হলেও তিনি নিখোঁজই ছিলেন। বুধবার পূর্ব বাড্ডার বালুর মাঠ এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশ থেকে অলিউরের একটি জোড়া স্যান্ডেল ও রক্তমাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার হয়। বিষয়টি বাড্ডা থানায় জানানো হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উলারটেক এলাকার একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে পলিথিনে মোড়ানো ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অলিউরের মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, অলিউরের মাথার পেছনে, বাম কানের নিচে এবং মাথার খুলিতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একটি ফুলহাতা শার্ট দিয়ে তাঁর মুখ শক্ত করে বাঁধা ছিল।

অলিউরের খালাতো ভাই রুবেল মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অলিউরের এক বন্ধু জাহিদ কাপড়ের ব্যবসা করেন। কয়েক মাস আগে অলিউর তাঁর মা নাজমা বেগমের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে জাহিদকে দিয়েছিলেন। পরে টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরিবারের ধারণা, সেই বিরোধের জের ধরেই অলিউরকে হত্যা করা হতে পারে।

এসআই মাহমুদুল হাসান আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার কারণে অলিউরকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার বিবরণ তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।