অন্যায়, বৈষম্য এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের এক অনন্য নিদর্শন হলো জুলাই। এটি শুধু একটি গণ-আন্দোলনের স্মৃতিমাত্র নয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল চত্বরে আয়োজিত এক স্মরণসভায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা এই মর্মে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।

হল সংসদের ব্যবস্থাপনায় 'জুলাইয়ের মৈত্রী হল: মোমবাতি প্রজ্বালন ও সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান' নামের এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। আয়োজকদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ আক্রমণ চালায়। ওই দিন ক্যাম্পাসজুড়ে দমন-পীড়ন, পুলিশের গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে এবং প্রতিবাদী শ্লোগানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঁচিয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ধরেই এবারের স্মরণানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়।

হল সংসদের সহসভাপতি এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রাফিয়া রেহনুমা বলেন, হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের ফসল এই জুলাইকে চির অম্লান রাখার দায়িত্ব তাদের। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কণ্ঠ সোচ্চার থাকবে এবং জুলাইয়ের স্মৃতিকে সমুন্নত রাখতে হবে, কারণ এটি তাদের কাছে শহীদদের জীবনের আমানত।

মৈত্রী হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক নিশিতা জামান উল্লেখ করেন, জুলাই ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এটি শুধু একটি আন্দোলন ছিল না, বরং স্বৈরাচারী শাসন, বৈষম্য ও সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই সাহস, ত্যাগ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে প্রতিবছর ফিরে আসবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ সংগঠক, হলের সহসাধারণ সম্পাদক ও অপর এক সমন্বয়ক তানজিনা তাম্মিম অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের বছর জুলাইয়ের ১৪ তারিখ 'জুলাই নারী দিবস' হিসেবে উদযাপিত হলেও এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা পালন করেনি। তার দৃষ্টিতে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীদের যুগ যুগ ধরে চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক ভূমিকা ও সংগ্রামী ইতিহাসকে অস্বীকার ও অবমাননার শামিল।

অনুষ্ঠানজুড়ে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন, মোমবাতি প্রজ্বালন, দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশনা এবং প্রতিবাদী স্লোগানের মাধ্যমে এই প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।