দেশের বাজারে টানা তিন দিন স্থিতিশীল থাকার পর আবারও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, ২২ ক্যারেট বা ভালো মানের সোনার প্রতিটি ভরির দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও ভরিতে ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত শনিবার দেশের বাজারে ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ নতুন করে দাম সমন্বয় করা হলো। রুপার দামেও এসেছে পরিবর্তন।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দর বাড়ায় দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজকাল রাত ১০টার পর থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।

নতুন দর অনুযায়ী ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকায় বিক্রি হবে। দাম বাড়ানোর আগে ২২ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।

এদিন রুপার বাজারেও দর বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন ৫ হাজার ৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪ হাজার ৯৬৫ টাকার কাছাকাছি। ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৮৪০ টাকা। বিশ্ববাজারে আজ আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৩২ ডলার বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েছে ৩৬২ ডলার।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপর কিছুটা কমলেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান-মার্কিন যুদ্ধ শুরু হলে দাম আবারও পাঁচ হাজার ডলারের ওপরে ওঠে। পরে যুদ্ধবিরতি হলে সোনার দর চার হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে এবং প্রায় দুই মাস সেখানে স্থিতিশীল থাকে। সেই ধারায় এবার আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে।