নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির গলা কেটে হত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর নাম মো. সালেহ আহমেদ (৫০), তিনি পেশায় করাতকলের শ্রমিক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বরলা উত্তরপাড়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতে খাবার খেয়ে সালেহ আহমেদ ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রীর ঘুম ভাঙে, তখন তিনি দেখতে পান একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাকে চিনতে না পারলেও স্ত্রী লক্ষ্য করেন স্বামীর গলায় ছুরির ক্ষত। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার করে লোক ডাকেন। চিৎকার শুনে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় ঘরের কোনো মালামাল চুরি হয়নি।

গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সালেহ আহমেদকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাছির উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আহত ব্যক্তির ভাই ও স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাঁদের বর্ণনা শুনে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম জানান, রাতে এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ খবর পায় সকালে। সালেহ আহমেদের স্ত্রী যেভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কে বা কারা কেন এমন হামলা চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।