কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষের মিথস্ক্রিয়ার পদ্ধতি নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান। তিনি সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের গোলটেবিল আলোচনায় বলেন, বর্তমানে মানুষ নিজেদের ‘কম্পিউটারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়’, যা আদতে কাম্য নয়। ব্রকম্যানের মতে, টাইপিং ও ক্লিক করা একটি অস্থায়ী পর্যায়, যা ভবিষ্যতে আর থাকবে না। ‘একশ বছর আগে কেউ এই কাজ করেনি। কয়েক বছরের মধ্যে কেউ আর এটা করতে চাইবে না,’ বলেন তিনি।
ভয়েস প্রযুক্তি নিয়ে ওপেনএআই বড় বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি এটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ও গুগল জেমিনাইয়ের থেকে নিজেদের আলাদা করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখছে। গত ২৩ জুলাই ওপেনএআই তাদের চ্যাটজিপিটি ডেস্কটপ অ্যাপে ‘চ্যাটজিপিটি ভয়েস’ নামে একটি ভয়েস মডেল যুক্ত করে, যাতে হোয়াইট-কলার কর্মীরা মৌখিকভাবে নির্দেশ দিতে পারেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য এটি বিশেষভাবে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ তারা এখন কথা বলে কোড লিখতে পারবেন।
তবে ভয়েস প্রযুক্তি পুরোপুরি টাইপিংয়ের বিকল্প হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গভীর সম্পাদনা, কোড রিভিউ, গবেষণা ও এআই প্রম্পটিং—এসব কাজ শুধু কণ্ঠের মাধ্যমে করা বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মত দিচ্ছেন অনেকে। অনেক সময় বিস্তারিত তালিকা তৈরি বা সমস্যা সমাধানের জন্য লেখাই বেশি কার্যকর।
শুধু ওপেনএআই নয়, সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান মেনলো ভেঞ্চারসও ভয়েস প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারা তাদের চারটি ডেস্কে মাইক্রোফোন বসিয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা কথা বলে কাজ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের কয়েকজন বিনিয়োগকারী ‘ভয়েস-পিলড’—অর্থাৎ তারা পুরোপুরি ভয়েস প্রযুক্তিতে বিশ্বাসী। তারা মনে করেন, টাইপিংয়ের চেয়ে কথার মাধ্যমে দ্রুত ও বেশি উৎপাদনশীলভাবে কাজ করা যায়। তারা উইসপ্র ফ্লো নামে একটি এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। ফরচুন ৫০০ কোম্পানির মধ্যে ৪৫০টিই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
মেনলো ভেঞ্চারসের বিনিয়োগকারীরা খোলা অফিসে ভয়েস প্রযুক্তি ব্যবহার করতে কিছুটা ‘অস্বস্তি’ বোধ করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করে, এটা ‘বৃদ্ধির যন্ত্রণা’র অংশ হতে পারে। উইসপ্র ফ্লো মূলত ফিসফিস করে কথা বলার জন্য অপ্টিমাইজড। ব্যবহারকারীরা নিচু স্বরে মাইক্রোফোনে কথা বলতে পারেন। তবে অফিস পরিবেশে ফিসফিস করাটা আরও বেশি অদ্ভুত—এমনকি ভীতিকর—হতে পারে বলেও মন্তব্য রয়েছে। তবে উইসপ্র জানিয়েছে, যখন কেউ অপরের ‘ঠিক এক ফুট দূরে’ বসে থাকে এবং গোপনীয় তথ্য আলোচনা করে, তখন এই পদ্ধতি জরুরি।
ব্রকম্যানের মতে, ভয়েস ইন্টারফেস কম্পিউটারকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসবে। ‘আমি মনে করি ভয়েস হবে ভবিষ্যতের ইন্টারফেস। এর মানে হলো, কম্পিউটার আপনার কাছাকাছি চলে আসবে, বরং আপনাকে যন্ত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে না,’ বলেন তিনি।
ওপেনএআই ভবিষ্যতে একটি কনজিউমার হার্ডওয়্যার ডিভাইস বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে, যাতে ভয়েস প্রযুক্তি থাকবে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। এই ডিভাইসটি বাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী হবে এবং অ্যামাজন অ্যালেক্সা, গুগল হোম ও অ্যাপল হোমপডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাফল্য নির্ভর করবে ভয়েস মডেলের মানের ওপর।



