বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চ আজ সাক্ষী হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াইয়ের। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন যখন মাঠে নামবেন, তাঁর সঙ্গে থাকবে শৈশবের কঠিন বাস্তবতার স্মৃতি। নয় বছর বয়সে আর্সেনাল একাডেমিতে ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়ে কেঁদেছিলেন তিনি। সমবয়সীদের তুলনায় শারীরিক গঠন ও দৌড়ানোর গতি পিছিয়ে থাকায় কোচদের নজর কাড়তে পারেননি। বাড়ি ফিরে বাবার কাছ থেকে সান্ত্বনা পেয়েছিলেন— ‘কোনো সমস্যা নেই, আমরা নতুন ক্লাব খুঁজব’। সেই কথা শুনে নতুন করে পথচলা শুরু করেন কেইন। মিলওয়াল, নরউইচ ও লেস্টারের মতো ক্লাবে ধারে খেলে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে ২০১৩ সালে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সেই সময় আমেরিকান ফুটবল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডির ওপর তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখে তিনি নতুন উদ্দীপনা পান। ব্র্যাডির দুর্বল গড়ন ও শুরুর প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাফল্যের গল্প কেইনের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। এরপর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমান বিশ্বকাপে কেইনের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে শুরু। কঙ্গোর বিপক্ষে দল যখন হারের মুখে, তখন একটি হেড ও পায়ের জোরালো শটে ম্যাচ ফিরিয়ে আনেন। পানামার বিপক্ষে ম্যাচে গ্যারি লিনেকারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের ১৪ গোলের কীর্তি স্পর্শ করেন। তবে কেইনের গুরুত্ব শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ নয়। পেনাল্টি নেওয়ার সময় তাঁর নির্দিষ্ট একটি আচার রয়েছে: বল বসানো, বুট মোছা, জার্সি ঠিক করা, সাত পা পিছিয়ে গিয়ে গভীর শ্বাস নেওয়া। তিনি এটিকে ধ্যানের মতোই মনে করেন। টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পেনাল্টি (৬টি) গোল করার রেকর্ড এখন কেইনের। তাঁর পেনাল্টি সাফল্যের হার ৮৭ শতাংশ। দলের নেতা হিসেবেও কেইন প্রশংসিত। নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর কোচ টমাস টুখেল ও জুড বেলিংহামের মধ্যে মতপার্থক্যের গুঞ্জন ওঠে; কেইন তখন তা সামাল দেন। তিনি বলেন, গোটা দলটি একটি পরিবার এবং পরিবারে মতবিরোধ স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সুখী, দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী ও সন্তানদের সময় দেন। সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন একবার বলেছিলেন, তিনি কেইনের প্রতিটি অভ্যাস আয়ত্ত করতে চান। আজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই নিখুঁত ও ধ্যানী কেইনের ওপর ভরসা রাখবে ইংল্যান্ড। অপরদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাও শক্ত প্রতিপক্ষ। ফলে লড়াইটি হবে রোমাঞ্চকর।