২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ২০৫টি ম্যাচের কোনোটিই আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ছিল না। তাই এই ম্যাচ এক অর্থে 'প্রথম দেখা' উভয় পক্ষের জন্যই।

মেসির শৈশবের স্মৃতিতে ১৯৯৮ সালের সেই শেষ ষোলোর ম্যাচ গেঁথে আছে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১১ বছর। টেলিভিশনের পর্দায় তিনি দেখেছিলেন দিয়েগো সিমিওনের নাটকীয়তা, ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড, মাইকেল ওয়েনের অসাধারণ এক গোল এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়। ম্যাচ শেষে বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় ফুটবল খেলতে ছুটে গিয়েছিলেন সেই কিশোর। ২৮ বছর পর সেই কিশোর আজ দলের সেনাপতি, দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা পুরোপুরি মেসিনির্ভর হয়ে উঠেছে। বার্সেলোনায় 'মেসিদিপেনদেনসিয়া' শব্দটি যেভাবে ব্যবহৃত হতো, এখন তা আরও বেশি অর্থবহ। সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ১৪ গোলের মধ্যে ৮টি এসেছে মেসির কাছ থেকে। বাকি গোলগুলোর বেশিরভাগের সূচনাতেও তাঁর অবদান আছে—অ্যাসিস্ট, কর্নার কিংবা আক্রমণের শুরুতে তাঁর ছোঁয়া স্পষ্ট। দলটি যেন মেসির কাঁধে ভর করেই এ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তবে আর্জেন্টিনার খেলায় যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। রক্ষণভাগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো গোল করলেও ডিফেন্সে মারাত্মক ফাঁক রেখে যাচ্ছেন। মাঝমাঠের গতি শ্লথ এবং প্রতি-আক্রমণে দলটি অরক্ষিত। কিন্তু দিন শেষে সব সমালোচনা ম্লান হয়ে যায় মেসির নামে। হোঁচট খেতে খেতেও দল যখন সেমিফাইনালে পৌঁছে, তখন বোঝা যায় তাদের লক্ষ্য ফুটবলীয় সৌন্দর্য নয়, বরং মেসির জন্য টিকে থাকা।

১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা প্রায় একাই বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে—৫ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করে। বর্তমান মেসি হয়তো শারীরিকভাবে তেমন দৌড়াতে পারেন না, তবে খেলার বোধে তিনি আরও গভীর। সাবেক চেলসি কোচ জোসে মরিনিও একবার বলেছিলেন, 'মেসিকে থামানো যায় না, শুধু ম্যাচটা তার জন্য কঠিন করে তোলা যায়।' ইংল্যান্ড আজ বোধহয় সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।

মেসির জন্য এই ম্যাচের মানসিক তাৎপর্যও অনেক। ১৯৯৮ সালে তিনি ছিলেন দর্শক, আজ মাঠের নায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম লড়াই। এই ম্যাচের পর মেসি আর ইংলিশ ফুটবলের কাছে কেবল গল্প নয়, বাস্তবে পরিণত হবেন। পাশাপাশি, আর্জেন্টিনা আজ নীল জার্সি পরে মাঠে নামছে, যা নিয়েও রয়েছে ভিন্ন মাত্রার আলোচনা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই সেমিফাইনাল তাই শুধু দু'দলের লড়াই নয়, বরং কিংবদন্তি বনাম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের এক অনন্য মঞ্চ।