খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় অবস্থিত গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি একাডেমিক ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিকেলের দিকে দ্বিতীয় তলার ছাদসহ সামনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরেই ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া ও রড বেরিয়ে আসার মতো সমস্যা বিদ্যমান ছিল। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ার অভিযোগও ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে। তবে ভবনটি ধসে পড়ায় মাধ্যমিক ও কলেজ শাখার পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী রোববার থেকে পাশের একতলা ভবনে দুই শাখার ক্লাস একসঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক গোলাম রসুলের মতে, ছুটির দিনে ভবন ধসে পড়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। ভবনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানা গেছে। ধসে পড়া অংশের পিলার, বিম ও দেয়াল ভেঙে পড়েছে এবং চারদিকে ইট, কংক্রিট ও লোহার স্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি উপকূলের অন্যতম পুরোনো। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে ভবনটি নির্মিত হলেও আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে লবণাক্ত পানিতে বারবার প্লাবিত হওয়ায় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে সেখানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হয়। মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে ২৩০ জন শিক্ষার্থী ও ১৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনে আর ক্লাস নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় একই ভবনে দুই শাখার ক্লাস পরিচালনা করতে হবে, যা সবার জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করবে। এছাড়া ধসে পড়া ভবনটি সাইক্লোন সেন্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশরঞ্জন মৃধা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান। নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৭–১৮ অর্থবছরে অনুমোদিত হলেও মাটির স্তর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নকশা পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে। সয়েল টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে টেন্ডার সম্পন্ন করা হলেও এখনো কার্যাদেশ জারি হয়নি। উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানান, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা যাবে। পাশাপাশি পাঠদান সচল রাখতে দুই ইউনিট টিনশেড ভবনের বরাদ্দও রয়েছে। কার্যাদেশ জারির পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। ঠিকাদারের দেওয়া দর অনুযায়ী প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।
কয়রায় স্কুল ভবন ধস, প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব
খুলনার কয়রায় গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ দুইতলা ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে। ছুটির দিন হওয়ায় কোনো হতাহত হয়নি। তবে পাঠদান ও দুর্যোগ আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও কাজ শুরু হয়নি।


