বিশ্বকাপের ফাইনালটি যেন লা মাসিয়া একাডেমির গৌরবের এক অনন্য উদযাপন। রোববার রাতে নিউ জার্সির মাঠে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াইয়ে মোট ৯ জন ফুটবলার বার্সেলোনার বিখ্যাত ফুটবল-খামার থেকে উঠে এসেছেন। স্পেন দলে লামিনে ইয়ামাল, ভিক্টর মুনিয়োজ, পাউ কুবারসি, গাভি, দানি ওলমো, এরিক গার্সিয়া, অ্যালেক্স গ্রিমালদো ও মার্ক কুকুরেয়া—এই আটজন লা মাসিয়ারই শিক্ষার্থী। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি, যিনি ১৩ বছর বয়সে এই একাডেমিতে পা রেখেছিলেন এবং পরবর্তীকালে বিশ্ব ফুটবলের এক কিংবদন্তিতে পরিণত হন।

লা মাসিয়া শুধু একটি ফার্মহাউস নয়, এটি একটি স্বপ্নের নাম। ১৭০২ সালে নির্মিত কাতালান স্থাপত্যটি বার্সেলোনার যুব উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলে লা মাসিয়ার ৯ জন খেলোয়াড় ছিলেন। এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। মেসি, যিনি লা মাসিয়ার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তিনি এবার স্পেনের বিপক্ষে খেলবেন। ফলে যে দলই জিতুক না কেন, লা মাসিয়ার একটি সন্তানের গলায় পদক পড়বেই।

এই ফাইনালকে লা মাসিয়ার অতীত ও বর্তমানের লড়াই হিসেবেও দেখা যেতে পারে। মেসি লা মাসিয়ার সেই সুবর্ণ যুগের প্রতিনিধি, যখন পেপ গার্দিওলার অধীনে বার্সেলোনা অজেয় ছিল। অন্যদিকে ইয়ামাল বর্তমান প্রজন্মের প্রতীক, যিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলছেন। বার্সেলোনার সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা গর্বিত চিত্তে বলেছেন, ‘মেসি অতীত ও বর্তমান, আর লামিনে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। আমরা বার্সা ও লা মাসিয়াকে নিয়ে গর্বিত।’

লা মাসিয়া থেকে বেরিয়ে এসে মুনিয়োজ, কুকুরেয়া, গ্রিমালদো ও মেসি এখন অন্য ক্লাবে খেললেও তাদের শিকড়ের টান একই। বাকি পাঁচজন বর্তমানে বার্সেলোনায় খেলছেন। এই ফুটবল-খামারটি ধূসর রঙের একটি ভবন, যার সামনে কিছু গাছপালা ও মাঠ রয়েছে। বার্সা সমর্থকদের মতে, এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং একটি স্বপ্ন, যা থেকে মেসি, ইয়ামালদের মতো প্রতিভা জন্ম নিয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্তেই তাই লা মাসিয়ার নামটি ভেসে আসবে। ফাইনালটি যেন লা মাসিয়ার অতীত ও বর্তমানের এক ডার্বি।