দক্ষিণ কলম্বিয়ার একটি অননুমোদিত সোনার খনিতে ঘটে যাওয়া ভূমিধসে অন্তত ১৩ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। নারিনো প্রদেশের পোলিকারপা এলাকার ওই খনিতে বুধবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ওই কারিগরি পদ্ধতির খনিতে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচে কাজ করা শ্রমিকরা মাটি চাপা পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এক্সকাভেটর মেশিনের সাহায্য নিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় সাতজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, নিহত ১৩ জনের মধ্যে চারজন একই আদিবাসী পরিবারের সদস্য ছিলেন। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানা যায়, পোলিকারপার কাছাকাছি কুইলাসিঙ্গা আদিবাসী গোষ্ঠীর প্রায় ৫০ জন সদস্য নিয়মিতভাবে খনিটিতে কাজ করতেন। কলম্বিয়ায় অবৈধ খনিতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশেষত যেসব খনিতে স্থানীয়রা কোনো সরকারি তদারকি ছাড়াই মূল্যবান ধাতু উত্তোলন করে, সেখানে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলম্বিয়ায় আনুমানিক দুই লাখ থেকে চার লাখ মানুষ কারিগরি পদ্ধতিতে খনন কাজের সঙ্গে যুক্ত। বহু পরিবারের জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস এই খনি থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান ধাতু ও পাথর বিক্রির আয়। এই খাতটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অভাবের কারণে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকিতে থাকেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।