ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তিন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে কয়েকজন বহিরাগত তরুণ তাদের উদ্দেশে অশোভন মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছেন তারা। এর প্রতিবাদে এগিয়ে এলে ছাত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘর্ষ বাধে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। প্রক্টর ইসরাফিল রতন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে প্রক্টর কার্যালয়ের দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা রিকশা নেওয়ার সময় বহিরাগতরা তাদের উদ্দেশে কটূক্তি করে। ঘটনাস্থলে থাকা ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা বাধা দিলে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বহিরাগতদের সঙ্গে আরও কয়েকজন এসে যোগ দেয়, যারা ছাত্রদলের মিছিলে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তাকিমসহ তিনজন আহত হন।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল এক বিবৃতিতে ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন তিনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, তারা এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা কোনো ভিডিও ফুটেজও দেখাতে পারেননি। অনেক সময় ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ অপকর্ম ঘোরানোর চেষ্টা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রক্টর কার্যালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন শিপন; প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না বলে জানিয়েছেন প্রক্টর ইসরাফিল রতন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।




