বৈদ্যুতিক বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় রস+আলোর বিভাগীয় সম্পাদক নিজেই জানিয়েছেন, এই সমস্যা নিয়ে কিছু লিখলে সমাধান তো দূরের কথা, বরং উল্টো বিপত্তি বাড়ে। সম্প্রতি তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন, যেখানে ফুটে উঠেছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিত্যনৈমিত্তিক লড়াইয়ের চিত্র।

তার লেখায় উঠে এসেছে, বিভাগীয় সম্পাদক হওয়ার পর থেকে পরিচিত মহলে তার প্রতি একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, দেশের যেকোনো সমস্যার সমাধান তিনি করতে পারবেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, তার লেখা বা কথায় সমস্যার সমাধান হয় না; বরং অনেক সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিনি জানান, অনেকেই মনে করেন তিনি ভয়ে লিখতে চান না, যদিও বাস্তবতা ভিন্ন।

সম্প্রতি এক তরুণ acquaintance তাকে অনুরোধ করেন, বেড়ে যাওয়া কারেন্ট বিল নিয়ে কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে কিছু লেখার জন্য। সম্পাদক কৌতুক করে তাকে বলেন, বরং তুমিই কিছু লেখো, রস+আলোতে ভালো কার্টুন দিয়ে ছাপিয়ে দেব, আর তোমার নামও বড় করে দেওয়া হবে। কিন্তু ওই তরুণ এতে রাজি হননি; বরং ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আপনাকে আপন ভাইয়ের মতো মনে করছিলাম, কিন্তু আমাকে জেলে ঢোকানোর এমন বুদ্ধি আপনি দিতে পারলেন?”

নিজেও এই ভুতুড়ে কারেন্ট বিলের শিকার বলে জানান সম্পাদক। তিনি বলেন, অনেকেই প্রতিবাদী লেখা লিখছেন, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই তিনি একদিন বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখেন, বিদ্যুৎ অফিসের একদল কর্মী নিচে মিটার পরীক্ষায় ব্যস্ত। তিনি বলেন, “এত মনোযোগ দিয়ে কেউ তার প্রথম প্রেমেও মিটার দেখে না!”

অভিযোগ জানাতে গিয়ে এলাকার এক কর্মী তাকে চিনে ফেলেন। তার কাছে অভিযোগ জানানোর বদলে উল্টো ওই কর্মীই তার কাছে অভিযোগ করেন। কর্মী বলেন, “ভাই, আপনার তো চার গুণ বেশি বিল আসছে, কিন্তু আমার সম্বন্ধীর বাসায় আসছে ছয় গুণ বেশি। এই সব নিয়ে কিছু লিখুন না ভাই, এভাবে তো চলে না!”

এই ঘটনার পর সম্পাদক বুঝে গেছেন, এ সমস্যার সমাধান তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি হাস্যরসের মাধ্যমে বলেন, “না, যা বোঝার বুঝে গেছি আমি। চাকরিটাই ছেড়ে দিতে হবে।” তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তার চাকরি ছাড়ছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

রস+আলোর এই বিভাগীয় সম্পাদকের অভিজ্ঞতা যেন সাধারণ গ্রাহকদের প্রতিনিধিত্ব করে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপে সাধারণ মানুষ যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি কর্তৃপক্ষও যেন নিজেদের অবস্থান থেকে সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ। গ্রাহক পর্যায়ে অভিযোগ জানানোর পরও কোনো সমাধান না মেলায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।