চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বৈশ্বিক বক্স অফিসে বড় বড় অনেক চলবিত্রেই দেখা গেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত বিভিন্ন ছবি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টেনেছে প্রচুর। অ্যানিমেশন, জীবনীগাথা, বিজ্ঞানকল্পকাহিনি ও নাট্য — কোনো ঘরানাই পিছিয়ে ছিল না। এরই মধ্যে তিনটি সিনেমা এক বিলিয়ন ডলার পার করে ফেলেছে, আরও কিছু ছবি রয়েছে যাদের বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করার সম্ভাবনা প্রবল।
এই তালিকার শীর্ষে আছে ‘টয় স্টোরি ৫’। গত ১৯ জুন মুক্তি পেয়েই সিনেমাটি শোরগোল ফেলে দেয় এবং চলতি বছরের প্রথম বিলিয়ন-ডলার ছবি হিসেবে নিজের জায়গা করে নেয়। পিক্সাবের জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন পর্বে উডি, জেসি ও তাদের সাঙ্গীরা এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তাদের চ্যালেঞ্জ এ বার আর কোনো নতুন খেলনা নয়, বরং আধুনিক ডিজিটাল বিনোদন ও প্রযুক্তি। অ্যান্ড্রু স্ট্যানটনের পরিচালনায় অ্যানিমেশন ছবিটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন টম হ্যাংক্স, টিম অ্যালেন ও জোয়ান কুস্যাকের মতো তারকারা। বর্তমানে এর বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১.০২৫ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে দেশীয় বাজারে থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ও আন্তর্জাতিক অঞ্চল থেকে এসেছে ৫৭৫ মিলিয়ন ডলার।
এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন, সংগীত ও বিতর্কের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত জীবনীচিত্র ‘মাইকেল’ও বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ঢুকে পড়েছে। এতে প্রয়াত তারকার ভ্রাতুষ্পুত্র জাফর জ্যাকসন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছান। আঁতোয়ান ফুকোয়ার পরিচালিত এই ছবিটি সর্বকালের সর্বাধিক উপার্জনকারী সংগীতালয় বায়োপিকের খেতাব জিতে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত এটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৬৬৩ মিলিয়ন ও যুক্তরাজ্য থেকে ৩৭২ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ১.০১৬ বিলিয়ন ডলার আয় করায় সফল হয়েছে।
এপ্রিলের আরেক ব্লকবাস্টার ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালারী সিনেমা’-ও বিলিয়ন ডলার ক্লাবের সদস্য। এ ছবির গল্পে মারিওকে এবার কিংডমের গণ্ডি ছেড়ে মহাকাশের দুর্বীণে বেরিয়ে পড়তে দেখা যায়, যেখানে সে অজানা সব গ্রহ ও মহাজাগতিক প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হয়। অ্যারন হরভাথ ও মাইকেল জেলেনিকের নির্মাণে এটি পারিবারিক দর্শকদের জন্য বছরের অন্যতম বড় চমক। ১.০১২ বিলিয়ন ডলারের মোট আয়ের বড় অংশ অর্থাৎ ৫৮১ মিলিয়ন এসেছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে, আর হলিউড থেকে আসে ৪২৯ মিলিয়ন।
অন্যদিকে দীর্ঘ দুই দশক পর পর্দায় ফেরা ‘দ্য ডেভিল অওরস প্রাডা ২’ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যপূরণ করতে পারেনি। মে মাসে মুক্তির পর এটি কিছুটা ধীরগতির শিকার হয়। ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল পরিচালিত ও মেরিল স্ট্রিপ, অ্যান হ্যাথওয়ে, এমিলি ব্লান্টের মতো শিল্পীদের সমাগমে সাজানো সিনেমাটি বদলে যাওয়া ফ্যাশন জগতের চিত্র তুলে ধরে। এখন পর্যন্ত এর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উভয় বাজার থেকেই ৪৭০ মিলিয়ন ডলার করে মোট আয় হয়েছে ৬৯০.৯ মিলিয়ন ডলার।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ও ড্রামার মিশেলে তৈরি ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ গত মার্চে মুক্তি পায়। রায়ান গসলিং অভিনীত গল্পে এক বিজ্ঞানী ঘুম ভেঙে মহাশূন্যে নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ আবিষ্কার করে এবং পরে বুঝতে পারে পৃথিবীকে রক্ষা করার গুরুদায়িত্ব তারই। ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলারের পরিচালনায় ছবি টি দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ৬৮৪ মিলিয়ন ডলার টিকিট বিক্রি করেছে।
ক্রিস্টোফার নোলানের মহাকাব্যিক ‘দ্য অডিসি’ নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। ১৭ জুলাই মুক্তির পর এটি ক্রমাগত ভালো বাণিজ্য করে যাচ্ছে। ট্রয় যুদ্ধের পর রাজা ওডিসিউসের ঘর ফেরার পথের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথওয়েসহ অনেকে। খুব দ্রুত এ সিনেমার আয় ৬৬৬ মিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, যার ৩৬২ মিলিয়ন এসেছে বিদেশি বাজার ও ৩০৪ মিলিয়ন দেশীয় বাজার থেকে। বিশ্লেষকদের মত, আগামী সপ্তাহেই এটি বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরোবে।
তালিকায় অদলবদলে জায়গা পেয়েছে একটি অ-হলিউড চলবিত্রও। চীনা নির্মাতা হান হানের পরিচালনায় ক্রীড়া-হাস্যরস নির্ভর ‘পেগাসাস ৩’ বৈশ্বিক বক্স অফিসে ৬৫৬ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এই অংকের সিংহভাগই ৫৫৫ মিলিয়ন এসেছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে, আর চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৩৭ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। রেসিং জগতের স্বপ্ন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার কাহিনি দর্শকদের টেনেছে।




