ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ রাজেশ কুমার। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’ নাটকের রোশেশ চরিত্রটির জন্য তিনি আজও দর্শকহৃদয়ে উজ্জ্বল। কিন্তু পেশাদারি জীবনের চূড়ায় পৌঁছেও এক ব্যক্তিগত দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত তাঁকে টেনে নিয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সম্প্রতি ‘ওহ মাই ডগ’ সিনেমার প্রচারণায় এক সাক্ষাৎকারে রাজেশ কুমার অত্যন্ত খোলামনে তুলে ধরেছেন সেই অন্ধকার সময়ের বেদনাবিদুর বিবরণ।

ক্যারিয়ারের ভরা মৌসুমে তিনি হঠাৎ করেই মুখ ফিরিয়ে নেন অভিনয় জগৎ থেকে। উদ্দেশ্য ছিল কৃষিজমিতে হাত লাগানো। কিন্তু সেই পরিকল্পনা শুধু আর্থিক ধ্বংসই ডেকে আনেনি, তাঁর মনের জোরকেও কঠিনভাবে পরখ করে নেয়। ‘হয়তো এই সবই বিধাতার পরিকল্পিত ছিল,’ মন্তব্য করে রাজেশ বলেন, ‘বিয়াল্লিশ বছর বয়সে ক্যামেরা ফেলে কাস্তে ধরেছিলাম। আর তাতেই গেছে সব। ২০২২ সালে আবার অভিনয়ে ফেরা। এই পাঁচটি বছর আমায় পুরো বদলে দিয়েছে। এখন আমি একই সঙ্গে বাস্তববাদী ও মাটিরও অনেক বেশি কাছের একজন মানুষ। জীবনের তলানিতে ঠেকার নিষ্ঠুর যাতনাও তাই খুব কাছ থেকে বুঝেছি।'

স্মৃতিচারণায় তিনি জানান, দুর্দিনে ক্রেডিট কার্ডের বিল শোধে ব্যর্থ হন তিনি। ঋণ আদায়কারীরা অ্যাপার্টমেন্টের গেটে দারোয়ানের কাছে ফোন করিয়ে তাকে গালিগালাজ করতেন। অর্থাভাবে শেষমেশ নিজের গাড়িটি বিক্রয় করে দিতে হয়। 'একটা ইকো গাড়ি বাকি ছিল, তাও পরে নাসিকের সেই কৃষি শ্রমিকদেরই দিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম, যাদের মজুরি দিতে আমি অপারগ ছিলাম,' স্মৃতিচারণ করেন রাজেশ। কিন্তু চরম প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের মনের জোর নষ্ট করতে দেননি এই অভিনেতা। 'কোনো দিনই হতাশা কিংবা উদ্বিগ্নতার জালে নিজেকে বন্দী হতে দিইনি। বিগত চার-পাঁচ বছরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, এই বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাকে ব্যাপকভাবে পুষ্ট করেছে,' বলেন তিনি।

রাজেশের বিশ্বাস, জীবনের এই রুক্ষ সংগ্রামই তার ভেতরের অভিনেতাকে আরও তীক্ষ্ণ করেছে। তিনি বলেন, 'এতরকম বিচিত্র অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাওয়ায় এখন বিভিন্ন পরিস্থিতির মানুষকে নিজের মধ্যে খুঁজে পাই। চরিত্রের কাজকর্মগুলোকে আরও যৌক্তিক ও বাস্তব মনে হয়। এখান থেকেই অভিনয়ক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাস জন্মায়।' তাঁর পরামর্শ, একজন মানুষ যত বেশি মমত্ববোধ ও মানুষের কাছাকাছি যেতে পারে, তার শৈল্পিক প্রকাশও তত গভীর হয়।

একই সিনেমার অভিনেতা পবন মালহোত্রাও সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মজার এক অপরিতোষ তুলে ধরেন। নবীন দর্শক তাঁকে প্রায়ই বলে, অভিনয়টি মনে আছে, কিন্তু নামটি নয়। এ ঘটনাকে একজন অভিনেতার কাছে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বলেই গণ্য করেন পবন। তাঁর ভাষ্য, দর্শক যদি অভিনেতার চেয়ে তার সৃষ্ট চরিত্রটিকে বেশি স্মৃতিতে ধারণ করে, সেটিই সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন অমিত রায়। তিনি নিজেও সংগ্রামের দীর্ঘ গল্প শোনান। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের পর দ্বিতীয় সিনেমার পর্দা তুলতে সময় লেগে গিয়েছিল দীর্ঘ ১৪ বছর। এত বছরে বহু হৃদয়গ্রাহী স্ক্রিপ্ট নিয়েও প্রযোজক জোটাতে পারেননি তিনি। কিন্তু একদিনের জন্যও নৈরাশ্যে ডুবেননি; বরং বিশ্বাস রেখেছেন, যে গল্প রূপটিতে অন্যরকম, তাকে বাস্তবে আনতে গেলে লড়াইয়ের ময়দানে কিছুটা বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতেই হবে।