রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকার ফুটপাতে মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রি করতেন মিজানুর রহমান। কম দামের কারণে দোকানটিতে প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। তবে গত রোববার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনার সাথে দোকানটিও ভেঙে দেওয়া হয়। এর আগে, ৯ আগস্ট কাফরুল থানা-পুলিশ মিজানুরকে গ্রেপ্তার করে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উচ্ছেদের পরদিন সোমবার সরেজমিনে তালতলার ফুটপাতে দেখা যায়, সব দোকানই উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফুটপাতজুড়ে ভাঙা কাঠামো, বাঁশ ও লোহার খুঁটির টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যেখানে মানুষ বসে খাবার খেত, সেটি এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী জানান, এটি তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, মিরপুর ১০ নম্বরসহ অন্যান্য এলাকার ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চললেও তালতলায় কেন শুধু এত কঠোর অভিযান চালানো হলো? মিজানুরের দোকানটি কেন এত জনপ্রিয় ছিল, তার কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমান বাজারে গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে প্রতি কেজি গরুর মাংসের গড় দাম ছিল ৩০০ টাকা, যা এখন বেড়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এই মূল্য একজন রিকশাচালকের পুরো দিনের আয়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মিজানুরের দোকানটি ছিল একমাত্র সাশ্রয়ী ভরসা। স্থানীয় নির্মাণশ্রমিক রাসেল হোসেন জানান, তিনি নিয়মিত মিজানুরের দোকানে খেতেন। আগারগাঁও ও তালতলার মধ্যমানের রেস্তোরাঁগুলোতে এক বাটি গরুর মাংসের দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, আর ভাতসহ খেতে খরচ হয় কমপক্ষে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ মিজানুরের দোকানে মাত্র ১০০ টাকায় ভাত ও গরুর মাংস পাওয়া যেত। এছাড়া, মিজানুরের ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তিনি ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন, যা দোকানটিতে ক্রেতার ভিড় আরও বাড়িয়ে দেয়। দোকানটি উচ্ছেদ হলেও গরুর মাংসের দাম কমানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের সংকট আরও প্রকট হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।