সংসদীয় কার্যপ্রণালি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা না মানার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে একতরফাভাবে আইন পাস করছে এবং স্থায়ী কমিটি গঠন করছে, যা সংসদের জবাবদিহি ও কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কার্যপ্রণালির ৭৭ বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের পর তা স্থায়ী কমিটি, বাছাই কমিটিতে পাঠানো বা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচার করা যেতে পারে। কিন্তু 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬' পাসের সময় এসব প্রক্রিয়ার কিছুই অনুসরণ করা হয়নি। বিরোধী দলের জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয় এবং সংশোধনীর সুযোগও দেওয়া হয়নি। বিলের অনুলিপি সংসদ সদস্যদের হাতে পৌঁছায় উত্থাপনের আগমুহূর্তে, যা পর্যালোচনার জন্য যথেষ্ট সময় দেয়নি বলে টিআইবি মনে করে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত পাস করা হয়েছে। ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়?
স্থায়ী কমিটি গঠন প্রসঙ্গে কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮ ধারা টেনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, যিনি ইতিমধ্যে স্বার্থের সংঘাত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত, তাকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। একজন মন্ত্রিসভা সদস্যের পক্ষে অন্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে এ ধরনের নজির দেখা যায়নি।
একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি জানায়, ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছিল যে সরকারি হিসাব কমিটি, বিশেষ অধিকার কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আসনসংখ্যার অনুপাতে বণ্টনের অঙ্গীকারও ছিল। সে অনুযায়ী প্রায় ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি বিরোধী দলের হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টিআইবি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ইতিমধ্যে গঠিত বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিজেদের অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত নতুন আইন প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়।




