রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান (তাইম) হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৯ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হবে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
এই মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নয়জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক ও সাবেক উপপরিদর্শক সাজ্জাদ উজ জামান। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই দিন যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী সেতুর কাছে গুলি করে হত্যা করা হয় তাইমকে। নিহত তাইম রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের গুলিতেই প্রাণ হারান পুলিশ কর্মকর্তার এই সন্তান। তাইমের পরিবারের বক্তব্য, হত্যাকাণ্ডের সময় তাকে বহুবার গুলি করা হয় এবং সে ‘মা মা’ করে কাঁদতে থাকে।
এই মামলার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানিয়েছেন, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ায় আগামী ৯ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল।




