নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধনের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবারের সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রথমেই উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা। বর্তমান আইনে তাদের জন্য এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খোলা থাকলেও ইসি মনে করে, এটি আর রাখা ঠিক হবে না। একইসঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদেরও প্রার্থী হতে না দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় সরকার স্তরে তা অনুপস্থিত, যা বন্ধ করতে চায় ইসি।
সেনা মোতায়েনের আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও এসেছে ইসির কাছ থেকে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় ‘প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ’ বা সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে এই সুযোগ থাকলেও উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আইনে নেই। এই সংযোজন কার্যকর হলে তিন বাহিনীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আলাদা নির্দেশের প্রয়োজন হবে না; তারা পুলিশের মতো ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন ও বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবে।
অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ঋণের জামিনদারদের ঋণখেলাপি হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা; বিদ্যুৎ, ভূমি কর, ওয়াসাসহ সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের বিল খেলাপিদের প্রার্থিতা নিষিদ্ধকরণ; সিটি করপোরেশনে প্রশাসক পদে থাকাকালীন নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন না করার বিধান রাখা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ইসি সচিব জানান, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন এখন অনলাইনে নেওয়া হবে এবং সংশোধনী ফি নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। এনআইডি নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফরমে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ তথ্য যোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সহজ হয়। বর্তমানে ১৬ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়; ভবিষ্যতে এই তথ্য সংগ্রহের স্তর (এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক) নির্ধারণে আরও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এখন এসব প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে; সরকার সেগুলো বিবেচনা করলে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সংসদে বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু হবে।




