চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি স্ক্র্যাপবাহী লরিতে অপ্রত্যাশিতভাবে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট পদচারী–সেতু এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভাগ্যক্রমে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে একটি লেন চালু করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. হাশেম জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে স্ক্র্যাপ নিয়ে লরিটি সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীঘাটা এলাকায় অবস্থিত একেএস স্টিল মিলে যাচ্ছিল। ফৌজদারহাট পদচারী-সেতুতে ওঠার পর লরিটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরই মধ্যে হঠাৎ করে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কেবিনের অংশ পুরোপুরি পুড়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত লরিটি সরানোর কাজ শুরু করে।

একেএস স্টিল মিলের অন্তর্গত আবুল খায়ের গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক ইমরুল কাদের ভূঁইয়া জানান, বন্দর থেকে স্ক্র্যাপ নিয়ে কারখানায় ফেরার পথে গাড়িটিতে আগুন লাগে। কেন এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে কারখানা থেকে প্রকৌশলী পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লরিটি থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। আশেপাশের লোকজন দ্রুত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ততক্ষণে লরির কেবিন সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

মহাসড়কে অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঢাকামুখী লেনে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এক লেন চালু করলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বিকল্প পথ ব্যবহার করে অনেক চালককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

লরিটিতে স্ক্র্যাপের পাশাপাশি অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ছিল কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের নিয়মিত পরিদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।