জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে দেখা দেওয়ায় সিঙ্গাপুর তাদের আর্থিক নীতির লাগাম টেনে ধরেছে। বিশ্বের অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রচলিত রীতি থেকে ভিন্ন পথে হেঁটে সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় আর্থিক কর্তৃপক্ষ (মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর - এমএএস) দেশটির মুদ্রা বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মধ্যমেয়াদী মূল্য স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঁচা তেলের মূল্যে এই উল্লম্ফন সরাসরি আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ সিঙ্গাপুরে মূল্যস্ফীতির পারদ চড়ানোর শঙ্কা তৈরি করেছে। মন্ত্রণালয় সোমবার এক ঘোষণায় জানায়, ক্রমবর্ধমান ব্যায়বহুল জ্বালানি আমদানির প্রভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে যে দাম বৃদ্ধি হতে পারে, তা নিয়ন্ত্রণেই এই পদক্ষেপ।
এনএএস-এর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সাধারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নির্ধারণ নীতির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। তারা সিঙ্গাপুর ডলারের লেনদেন ভিত্তিক মূল্য ঠিক রাখতে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর মুদ্রার একটি তৌলিত ঝুড়ির বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারকে কাজে লাগায়। এর ফলে আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করে অভ্যন্তরীণ ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে অপরিশোধিত তেলের দর ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুরের এই নীতিমালায় সংশোধন বিশ্ব বাজারে এক তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এনএএএস-এর পূর্বাভাষ অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে পণ্যটির দাম আরও ঊর্ধ্বগামী থাকলে এই কঠোর নীতি ধারাবাহিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।




