ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এসে ঠাঁই করে নিয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা চার দল। ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন এবং ইংল্যান্ড—প্রত্যেকেই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ফলে ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও কোনো অঘটন ঘটেনি। এখন সবার দৃষ্টি ফাইনালের দিকে, যেখানে চারটি ভিন্ন সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি সম্ভাব্য ম্যাচআপই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় গভীরভাবে প্রোথিত।
প্রথম সম্ভাবনা হলো স্পেন বনাম ইংল্যান্ড। যদি এই দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হয়, তাহলে তা হবে ২০২৪ ইউরো ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। দুই বছর আগে বার্লিনের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্পেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের দেখা হয়েছে মাত্র দুবার। ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে স্পেন জিতেছিল ১-০ গোলে, আর ১৯৮২ সালে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপে পুনরায় মুখোমুখি হলে প্রতিশোধের সুযোগ পাবে হ্যারি কেইনের দল। স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ বনাম ইংল্যান্ডের কেইন ও বেলিংহামের ফর্ম—ফাইনালটি হবে সমান তালের লড়াই।
দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল পুনরায় দেখার সুযোগ আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। ২০২২ সালের সেই ম্যাচে প্রায় জয়ের কাছাকাছি থেকেও শেষ মুহূর্তে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত খেলায় টাইব্রেকারে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে যায় লিওনেল মেসির দল। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে এই দুই দলের লড়াই হলে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলাই বাহুল্য। ফর্মের দিক থেকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা দল হিসেবে দুই দলই শীর্ষে রয়েছে।
তৃতীয় সম্ভাবনা ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব। মধ্যযুগের 'হানড্রেড ইয়ার্স ওয়ার'-এর স্মৃতি এখনও ফুটবল মাঠে টাটকা থাকে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনবার তাদের দেখা। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড ২-০, ১৯৮২ সালে ৩-১ গোলে জিতলেও ২০২২ কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ গোলে শেষ হাসি হেসেছিল। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক নিয়েও জোর গুঞ্জন রয়েছে, যা ফাইনালে এসে আরও তীব্র হতে পারে।
সবশেষ সম্ভাবনা স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার অল-স্প্যানিশ ফাইনাল। ষোড়শ শতকে আর্জেন্টিনা স্পেনের উপনিবেশ ছিল; আড়াই শ বছর পর স্বাধীনতা পেলেও ভাষা ও সংস্কৃতির মিল এখনও অটুট। এই দুই দলের লড়াই গত ডিসেম্বরে ফিনালিসিমার ফাইনালে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ভেন্যু ঠিক না হওয়ায় তা মাঠে গড়ায়নি। বিশ্বকাপের ফাইনালে না হওয়া সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এক প্রান্তে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে থাকা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে যুব প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল—গল্পের শেষ না শুরু, কোন অধ্যায় লেখা হবে তা নির্ভর করবে দুই দল সেমিফাইনালে জিততে পারার ওপর।

