উত্তর কোরিয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও সে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির অর্থনীতি প্রসারিত হলেও এর সুফল পৌঁছাচ্ছে না জনসাধারণের কাছে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন শাসক কিম জং উন।
চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতায় উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক খাতে যে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, সেই সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের নামে লেখাচ্ছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ফলে উত্তর কোরিয়ার সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সম্পদ মূলত রাষ্ট্রীয় প্রকল্প ও সামরিক খাতে ব্যয় হচ্ছে, যার কারণে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অর্থনৈতিক সাফল্যকে পুঁজি করে কিম জং উন তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করেছেন। দেশের প্রচার মাধ্যমে তাকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বেড়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই উন্নয়নের সুফল যাতে দেশের শাসকগোষ্ঠীর হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করছে প্রশাসন।
অর্থনৈতিক এই প্রবৃদ্ধি উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। যদিও দেশটির নাগরিকরা এখনো খাদ্য সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতির মতো সমস্যায় ভুগছেন, তবুও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অর্থনীতির সাফল্যের খবর প্রচার করা হচ্ছে। ফলে দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি ও জনগণের জীবনমানের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।




