উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ চীনে পাচারের একটি তদন্তের জের ধরে তাইওয়ানের প্রসিকিউটররা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার এক কর্মীকে আটক করেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বলা হয়, এই কর্মী এনভিডিয়ার অত্যাধুনিক এআই চিপসমূহ চীনে পাচারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তি. আমেরিক। উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর, চীনের কাছে হস্তান্তর রোধে কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাইওয়ানের কর্মীটি এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এনিভিডিয়ার চিপগুলি চীনা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রারম্ভে মার্কিন যুক্তি আরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এআই সার্ভার নির্মাতা কোম্পানি সুপার মাইক্রোর সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল যে তিনি এনভিডিয়ার তৈরি উন্নত এআই চিপ বেআইনিভাবে চীনে পাচার করছিলেন। এই দুই ঘটনার মধ্যে স্পষ্ট মিল রয়েছে, যা একটি বিস্তৃত চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

তাইওয়ানের প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আটককৃত এনভিডিয়া কর্মীর নাম বা পদবির বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই ঘটনা সিলিকন চিপ বাণিজ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। চীন দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয়ভাবে উচ্চমানের সিপ তৈরি করতে সক্ষম না হওয়ায় পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই প্রযুক্তি চীনের সামরিক ও নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এনিভিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাদের পণ্যের গন্তব্য ও শেষ ব্যবহারকারী নিরীক্ষণ করছে বলে ধারণা করা হয়। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আরও বিশদ তথ্য প্রকাশিত হবে বলেও মনে করছেন প্রযুক্তি বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।