ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কৌশলগত দিকগুলোতে নতুন করে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্তি বোর্ডের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১৫ দফা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্রীকরণ ও আমূল সংস্কারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে গাজা উপত্যকা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে এই শর্তগুলোর ব্যাপারে নেতানিয়াহু সরকারের আপত্তি থাকায় প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলো না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাখ্যান কেবল গাজা সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অবস্থানে এর প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন প্রশাসন ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয়ে ফাটল দেখা দিতে পারে।
এদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, সংগঠনটির সামরিক শাখা আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো শর্তসাপেক্ষে তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় ইসরায়েলি উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এতে সংঘাতের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য এখনও আশা প্রকাশ করছে যে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।




