দেশের মোটরসাইকেল বাজারে অ্যাডভেঞ্চার সেগমেন্টকে আরও শক্তিশালী করতে হিরো মোটোকর্প বাংলাদেশ নতুন দুটি মডেল নিয়ে এসেছে। শুক্রবার রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে এক্সপালস ২০০ ৪ভি এবং এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো নামের বাইক দুটির পরিচয় করিয়ে দেয়। নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি এই সিরিজটি দেশের অন–রোড ও অফ–রোড উভয় ধরনের অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের জন্য উপযোগী হিসেবে বাজারে আনা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক্সপালস ব্র্যান্ডটি এখন বাংলাদেশি আরোহীদের জন্যও উন্মুক্ত হলো বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
হিরো মোটোকর্পের প্রধান নির্বাহী হর্ষবর্ধন চিতালে এই উন্মোচন অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি বাজার নয়; বরং এটি তাদের বৈশ্বিক পরিচয় ও উৎপাদন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বারো বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। নিলয় মোটরসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা আধুনিক কারখানা, বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, তারা শুধু পণ্য আমদানি করছেন না; বরং দেশে উৎপাদন করছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে মিলেমিশে এগিয়ে যাচ্ছেন। নতুন সিরিজটি বাজারে আনার মাধ্যমে দেশের সড়কের উপযোগী বিশ্বমানের প্রকৌশল নিয়ে অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল–সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
তরুণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় চালকদের লক্ষ্য করে তৈরি এক্সপালস ২০০ সিরিজে দৈনন্দিন ব্যবহার ও দুর্গম পথের সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ডাকার অ্যাডভেঞ্চার দর্শন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ডিজাইন করা এই বাইকগুলোতে রয়েছে ১৯৯.৬ সিসি, চার–ভাল্ভ, একক সিলিন্ডার ও অয়েল–কুলড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন ৮,৫০০ আরপিএমে ১৮.৯ বিএইচপি শক্তি এবং ৬,৫০০ আরপিএমে ১৭.৩৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। এর সঙ্গে যুক্ত আছে পাঁচ–গতি বিশিষ্ট ট্রান্সমিশন।
বাইকের সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে তিনটি ভিন্ন এবিএস মোড—রোড, অফ–রোড ও র্যালি। ডুয়াল–পারপাস টায়ার, অ্যাডজাস্টেবল মোনো সাসপেনশন, এলসিডি ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ব্লুটুথ সংযোগ, টার্ন–বাই–টার্ন নেভিগেশন, ক্লাস–ডি এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প ও এলইডি ডিআরএল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ব্যাশ প্লেট, হ্যান্ডগার্ড এবং বাঞ্জি হুকসহ লাগেজ প্লেটও রয়েছে।
দুই মডেলের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। এক্সপালস ২০০ ৪ভি দৈনন্দিন যাতায়াত ও হালকা ট্রেইল রাইডিংয়ের জন্য উপযোগী। এর সিটের উচ্চতা ৮২৫ মিলিমিটার, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২২০ মিলিমিটার এবং সামনের সাসপেনশন ট্রাভেল ১৯০ মিলিমিটার। এই মডেলটি নীল ও সাদা রঙে পাওয়া যাবে।
অপরদিকে, এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো আরও বেশি অফ–রোড সক্ষমতা প্রদান করে। এতে রয়েছে প্রো অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন, যার সামনের ট্রাভেল ২৫০ মিলিমিটার ও পেছনের ট্রাভেল ২২০ মিলিমিটার। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২৭০ মিলিমিটার, সিট হাইট ৮৯১ মিলিমিটার। হ্যান্ডলবার রাইজার ও এক্সটেন্ডেড গিয়ার লিভারও যুক্ত করা হয়েছে। এটি শুধু সাদা রঙে বাজারে আসবে।
বিক্রয় ও পরিষেবার ক্ষেত্রে নিলয় মোটরস লিমিটেডের মাধ্যমে দেশজুড়ে ৫৩০টির বেশি অনুমোদিত সেলস ও সার্ভিস আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি নতুন মোটরসাইকেল কেনার সঙ্গে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি ও বিমা সুবিধা পাবেন ক্রেতারা।
মূল্যের দিক থেকে এক্সপালস ২০০ ৪ভির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রোর দাম রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। হিরো মোটোকর্প ও নিলয় মোটরস যৌথভাবে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।




