যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী প্রধান দেশগুলোকে শাস্তিমূলক শুল্কের আওতায় আনা। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নেতৃত্বে প্রণীত এই বিলে রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূলত চীন ও ভারতকে টার্গেট করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিলটি সংশোধন করে আগের প্রস্তাবিত ৫০০ শতাংশ শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, যেসব দেশ রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম ক্রয় করে, তাদের এই শুল্কের আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। ফলে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সম্ভাব্য এ শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, এসব দেশের মোট চাহিদার তুলনায় রাশিয়া থেকে গ্যাস কেনার পরিমাণ নগণ্য এবং তারা ইতিমধ্যে মস্কোর ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিলটিতে কেবল জ্বালানি নয়, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা, আর্থিক খাত এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত পুরোনো জাহাজের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরকেও টার্গেট করা হয়েছে।
গত বছর রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশ ছিল চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম। তবে ১৫ শতাংশের কম গ্যাস কেনার শর্তের কারণে চীনের বাইরে বাকি দেশগুলো এ শুল্কের আওতা থেকে ছাড় পাবে। অন্যদিকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। বিলের খসড়া তৈরিতে কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রয়াত গ্রাহামের সঙ্গে কাজ করেছেন। ব্লুমেনথাল জানান, বিলটি তৈরি করতে কঠোর পরিশ্রম ও বেদনাদায়ক আলোচনার প্রয়োজন হয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে একটি সন্ধিক্ষণে রয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তারা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনছে, তাই এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উত্থাপিত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিলটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি লিন্ডসের সম্মানে করা হচ্ছে। এটি তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট ছিল। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে তিনি এটি বেশি চেয়েছিলেন।’ ট্রাম্পের মতে, বিলটি পাস হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সিনেট সূত্রে জানা গেছে, বিলটির পক্ষে ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের ২৬ জন সিনেটর সহপৃষ্ঠপোষক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন এবং আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও অনেকে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাশিয়ার জ্বালানি কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন, তবে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সম্প্রতি ভারতের জন্য রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিলের চূড়ান্ত শুল্কের হার নির্ধারণ করবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। হোয়াইট হাউস দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিল নিয়ে দুই দলের সিনেটরদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকলেও হোয়াইট হাউসের আপত্তিতে তা কমিয়ে ১০০ শতাংশ করা হয়, যাতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় প্রেসিডেন্টের নমনীয়তা বজায় থাকে।




