পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দমদম বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাঁকড়া মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করায় সেখানে সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি। সকাল থেকেই ওই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়। বিধাননগর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল বলে জানা গেছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী গতকাল কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, আজ শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে তিনি আজ বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসূচি পালন সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। পরে তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কাছের আরেকটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।

এদিকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় কিছু মুসল্লিকে নামাজের সময় হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরব আপত্তি জানাতে দেখা গেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, বিমানবন্দরসংলগ্ন এই মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে থেকেই সেখানে যাতায়াত ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ১১ জুলাই থেকে মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তাঁদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়ে দিয়েছেন যে ওই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না।

মসজিদ কমিটির দাবি, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৩৬ বছরের পুরোনো এই মসজিদে নামাজ বন্ধের আগে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি। অবিভক্ত ভারতের সময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য আসতেন বলে তারা জানান। মসজিদে নামাজের সুযোগ পুনর্বহাল এবং বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট খুলে দেওয়ার দাবিতে আজ সমাবেশের চেষ্টা করা হলেও কঠোর নিরাপত্তা ও ১৬৩ ধারা জারির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ওই অঞ্চলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।