যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর (ডিএইচএস) জানিয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) সদস্যদের গুলিতে যে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, তিনি তাদের অভিযানের প্রকৃত লক্ষ্য ছিলেন না। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঘটনাটি ঘটে একটি সড়ক যানবাহন থামানোর (ট্রাফিক স্টপ) সময়। আইসিই’র এজেন্টরা ওই সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তবে কেন বা কী পরিস্থিতিতে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ডিএইচএসের ভাষ্যে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে আরও তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় সময় শুক্রবারের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি হিউস্টন শহরে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিহত আরাউহোর পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, একজন নিরীহ ব্যক্তির প্রাণহানি অভিবাসন নীতিমালা ও তার প্রয়োগ কৌশলে বিদ্যমান ত্রুটিগুলোকে প্রকট করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযান চালানোর সময় বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা বিরল হলেও একেবারে অজানা নয়। অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনায় পুলিশি পদ্ধতি ও বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, এই মামলায় জড়িত এজেন্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে, এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও স্বতন্ত্রভাবে ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে।

লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর বয়স ও পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হিউস্টন এলাকারই বাসিন্দা ছিলেন। যে ট্রাফিক স্টপের সময় গুলির ঘটনা ঘটে, সেখানে আর কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও ডিএইচএসের বিবৃতিতে কোনো উল্লেখ নেই। পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং কেন এজেন্টরা ভিন্ন এক ব্যক্তির সন্ধানে গিয়ে আরাউহোকে গুলি করলেন, তা তদন্তের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।