যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্যে বড় ধরনের কর্তনের প্রভাব বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন নারীদের ওপর ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন) শুক্রবার জানিয়েছে, গত ১৮ মাসে বাজেট ছাঁটাইয়ের ফলে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।

সংস্থাটির জরিপে উঠে এসেছে, জরিপকৃত নারী সংগঠনগুলোর ৮৪ শতাংশই ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এই সময়েই ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসে এবং জাতিসংঘের বৃহত্তম দাতা দেশটি বৈদেশিক সাহায্যে কাটছাঁট শুরু করে। ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম প্রধান সোফিয়া ক্যালটর্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নারী সংগঠনগুলো থেকে প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট কিশোরী এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা জনগোষ্ঠী থেকে সেই সহায়তা কেড়ে নেওয়া।”

জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্যালটর্প আরও জানান, ইউএন উইমেন ৫২টি দেশে কর্মরত ৮৫৫টি নারী সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেছে। অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংস্থাগুলো ভেঙে পড়ছে এবং এর ফলে নারী ও কিশোরীরা সাহায্যপ্রার্থী হয়েও ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা জানি, এই সংখ্যা—অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী—হিমশৈলের চূড়ামাত্র।”

জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ নারী সংগঠন বর্তমান চাহিদা পূরণে আর সক্ষম নয়। প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে একটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে।

সংস্থাটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে, যেখানে দেখা গেছে গত বছর উন্নয়ন সহায়তা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে ১৭৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে—যা রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে বড় বার্ষিক সংকোচন। ক্যালটর্প পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে মন্তব্য করেন, “জরুরি পদক্ষেপ না নিলে, বিশ্বের ভয়াবহ সংকটের মধ্যে নারী ও কিশোরীদের বাঁচিয়ে রাখা সংগঠনগুলো যুদ্ধের আরেকটি শিকারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রসহ শীর্ষ দাতা দেশগুলোর অর্থছাঁটাইয়ের প্রভাবে গত দেড় বছরে জাতিসংঘের অনেক সংস্থাই হাজার হাজার চাকরি ছাঁটাই করেছে এবং বিশ্বব্যাপী সহায়তা কার্যক্রম সঙ্কুচিত করতে বাধ্য হয়েছে। এমতাবস্থায়, জাতিসংঘ ‘ইউএন৮০’ নামে পরিচিত একটি সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউএন উইমেনকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএ’র সঙ্গে একীভূত করার সম্ভাবনা নিয়েও বিবেচনা করছে।