কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুই নারীর মরদেহ। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাপাড়া সৈকতে প্রথম মরদেহটি এবং দুপুরে সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম সৈকতে দ্বিতীয় মরদেহটি স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। মরদেহ দুটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ — শাহপরীর দ্বীপে ভেসে আসা মরদেহটি বিকৃত এবং সেন্ট মার্টিনে পাওয়া মরদেহটি অর্ধগলিত ও মাথাবিহীন অবস্থায় ছিল। এ কারণে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সনজীব জানান, রাত পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে পরনের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মরদেহটি রোহিঙ্গা নারীর হতে পারে।
অন্যদিকে সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, মরদেহটি দীর্ঘদিন সাগরের পানিতে থাকায় পচে গেছে এবং মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ওসমান গনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌপথে মরদেহটি টেকনাফ বা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে স্থানীয় কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কোনো ট্রলারডুবির ঘটনায় অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপে আসার পথে বদরমোকাম চ্যানেলে নৌকাডুবির ঘটনায় এসব মরদেহ ভেসে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ধরে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে এবং টেকনাফের সঙ্গে সেন্ট মার্টিনের নৌযান চলাচল পাঁচ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।




