হাইকোর্ট দেশের থানা ও আদালতের মালখানায় জব্দকৃত পণ্য ও যানবাহনের ব্যবস্থাপনায় সুসংহত পদ্ধতি চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার আইন সচিবকে এ সংক্রান্ত একটি ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেন বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে নিজস্ব সুপারিশ ও কার্যপদ্ধতি সংবলিত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে থাকবেন পুলিশ মহাপরিদর্শকের মনোনীত একজন পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়াও থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মনোনীত অধস্তন আদালতের একজন বিচারক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ও তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মনোনীত একজন বিশেষজ্ঞ। অ্যাটর্নি জেনারেলের মনোনীত দুজন কর্মকর্তা, রিট আবেদনকারী আইনজীবী ও তাঁর প্রতিনিধি, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
প্রসঙ্গত, জব্দকৃত মালামাল যথাযথভাবে সংরক্ষণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে প্রায় চার বছর আগে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন মোহাম্মদ নোয়াব আলীসহ পাঁচ আইনজীবী। ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ আদেশ দেয় আদালত। ওই সময় থানা ও মালখানায় জব্দ পণ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন বিচারপতিরা। এরপর চলতি বছরের জুলাই মাসে দেওয়া আদেশে বর্তমান কমিটি গঠনের নির্দেশ আসে।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।
আদেশের আরেকটি অংশে দেশের সব থানায় চিঠি পাঠানোর জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই চিঠিতে জব্দকৃত মালামাল ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হবে। একইসঙ্গে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের জন্য পৃথক সার্কুলার জারি করবেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল।
আদালতের নির্দেশের পর রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, মালখানা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। জব্দকৃত পণ্য সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আইনি কাঠামো তৈরিতেও এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।




