পঞ্চগড় সদর উপজেলার হেলিপ্যাড বাজার সংলগ্ন শিংপাড়া এলাকায় গত ২৩ জুন বিকেলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিনটি পোস্টার লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিত্যক্ত একটি ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নামফলক, এর গেট এবং লোহার তৈরি ত্রিভুজাকৃতি ট্রাফিক সিগন্যালের মাঝখানে পোস্টারগুলো আঠা দিয়ে লাগানো ছিল। পোস্টারগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি এবং নৌকা প্রতীক ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এই তথ্য পায় এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন কুমার রায় বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে দেশের জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য পোস্টার প্রস্তুত, বিতরণ ও লাগানো হয়েছে। একইসঙ্গে ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠক পরিচালনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের প্রচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এই মামলায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম ওরফে বিপুলকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকলেছার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান সাকিক পাটোয়ারী, পৌর কৃষকলীগের সভাপতি আকতারুন নাহার ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। এছাড়াও সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ, পৌর যুবলীগের সভাপতি হাসনাত মো. হামিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিমসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলায় এ পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।