২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সোহানা সাবার নতুন প্রেমের কথা প্রকাশ পেয়েছিল। তখন তিনি প্রেমের বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রেমিকের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্ক যে বিয়ের পথে এগিয়েছে, তা নিজেই এখন জানালেন এই অভিনয়শিল্পী। তাঁর স্বামীর নাম ফয়সাল, যিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেড় বছরেরও বেশি সময় আগে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোহানা সাবার আগের সংসার ছিল নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে, যা প্রায় এক দশক টিকে ছিল। সেই সম্পর্ক থেকে তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কিছু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। তবে ধীরে ধীরে সব কাটিয়ে উঠে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজিয়েছেন তিনি। এই পথচলাতেই ফয়সালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

নিজের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের শুরু প্রসঙ্গে সোহানা সাবা জানান, ফয়সালের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলেছে। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কের পরই তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট দিন এবং তারিখ জানাতে রাজি হননি তিনি। শুধু এতটুকু বলেছেন, দেড় বছরের বেশি সময় আগে নিজেদের বাসাতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

বিয়ের পর বর্তমান জীবন কেমন কাটছে, এমন প্রশ্নে সোহানা সাবা বলেন, ‘আমার স্বামী, আমরা ভালো আছি। সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। দিন-তারিখ বলতে চাই না। আমার ছেলে অনেক খুশি।’

শুরুর দিকে স্বামীর নাম প্রকাশে অনাগ্রহী ছিলেন সাবা। তিনি বলেছিলেন, ‘নাম না বলি, পেশায় সে ব্যবসায়ী। সে তাঁর অঙ্গনে বিখ্যাত।’ তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি স্বামীর নাম ফয়সাল বলে জানান। এর বাইরে আর কিছু জানাতে চাননি তিনি।

ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেছেন সোহানা সাবা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছে, এই মানুষটার জন্যই অপেক্ষা করেছি এত দিন, প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তাকে বা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। সে-ই আমাকে নক করে ভালোবাসার কথা যখন জানায়, তখন তাকে “হ্যাঁ” বলেছি।’

বিয়ের খবরে তাঁর ছেলের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে অভিনয়শিল্পী জানান, ছেলেটি এই বিষয়টি খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। মায়ের নতুন জীবনের সঙ্গীকে সে পছন্দ করেছে এবং এই বিয়েতে বেশ খুশি।

ছোট পর্দায় কাজ শুরু করলেও পরে বড় পর্দায়ও পা রাখেন সোহানা সাবা। কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ সিনেমার শুটিংয়ের মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দার যাত্রা শুরু হলেও মুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর’। ওই ছবি মুক্তির পরের মাসে প্রদর্শিত হয় ‘আয়না’। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে অভিনয় করেছেন ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’ ও ‘অসম্ভব’ সিনেমায়। ভারতেও কাজ করেছেন ‘ষড়রিপু’, ‘এপার–ওপার’ এবং আরেকটি নাম ঠিক না হওয়া সিনেমায়। আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমাতেও দেখা গেছে সাবাকে।