টানা ভারী বর্ষণে আবারও ডুবেছে চট্টগ্রাম নগর। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিতে সোমবার সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকা গোড়ালি থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। অফিসমুখী মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। গত মাসেও চট্টগ্রামে একই রকম জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল।
বাসিন্দারা জানান, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় ভবনের নিচতলায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমেছে, আর রাস্তায় কোমরসমান। ফলে কর্মস্থলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার কলেজশিক্ষক ফারজানা আক্তার বলেন, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই এলাকায় পানি জমে যায়; এবারও একই পরিস্থিতি। এত পানি জমে থাকায় তিনি কলেজে যেতে পারেননি, ছেলেও স্কুলে যায়নি।
দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসিন্দা শিপ্রা দত্ত জানান, রাস্তায় তীব্র স্রোতের সঙ্গে কোমরসমান পানি জমে থাকায় হেঁটে যাওয়া সম্ভব ছিল না। বাসা থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া হলেও আজ রিকশাওয়ালারা ১৫০ টাকা দাবি করে। শুধু পানি জমে থাকা ১০০ ফুট রাস্তা পার হতে ১০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। ফরিদারপাড়ার আবু জাহেদ বলেন, ফরিদারপাড়া থেকে বহদ্দারহাটের স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা হলেও আজ ৫০ টাকা দিতে হয়েছে। হাঁটু পরিমাণ পানি ডিঙিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ায় বিকল্প উপায় ছিল না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণের অন্তর্ভুক্ত। আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন এ ধরনের বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া।
জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ শেষ হলেও ভারী বৃষ্টিতে আগের মতোই নগর তলিয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, সকালে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানির চাপ ছিল, তাই কিছু এলাকায় পানি জমেছে। পানি নিষ্কাশনে কর্মীরা কাজ করছেন এবং বৃষ্টি থামলে পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




