গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর একটি তালাবদ্ধ ব্যাগকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার নয়াপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনের ভেতরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এক নারী কালো রঙের একটি ব্যাগ রেখে যান। দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্যাগটি অযত্নে পড়ে থাকতে দেখে এবং কোনো মালিক না আসায় ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় তারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘেরাও করে ফেলেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় আধা ঘন্টার জন্য যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক স্থগিতের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ ভিড় জমায়।
পরবর্তীতে রাত দুইটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাগটি পরীক্ষার কাজ শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার নাটকীয় অপেক্ষার পর সোয়া দুইটার দিকে ব্যাগের তালা খোলা হয়। তখন দেখা যায়, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই; ব্যাগটির ভেতরে কোনো বোমা বা বিস্ফোরক ছিল না। ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েকটি ছেঁড়া কাপড়চোপড়, একটি পার্স, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রটি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার কল্যাণপুর মধুপুর এলাকার বাসিন্দা মোছা. রেখা বেগমের। পাশাপাশি তার স্বামী মো. মোশারফ সরকারের নামে একটি পেশাদার ডাইভিং লাইসেন্সও সেখানে ছিল। বর্তমানে ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যাগটি সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিস্ফোরক না পাওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে এবং রাতেই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।




