বুধবার দুপুরে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে মোট চারটি নৌযান দুর্ঘটনার শিকার হয়। নোয়াখালীর হাতিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় একটি কার্গো বাল্কহেডসহ তিনটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় ছাবের আহমেদ নামের এক ব্যক্তি প্রাণ হারান এবং মোট ৫৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় জেলে ও অন্যান্য নৌযানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সুবর্ণচর উপজেলার মো. ফারুক, মো. জাফর, মো. দেলোয়ার ও মো. তারেক; লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আবদুল মজিদ; চট্টগ্রামের বাঁশখালীর নুরুল আজম এবং খুলনার ছবির উদ্দিন। তাঁদের বিকেল তিনটার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাকি উদ্ধারকৃতরা সুস্থ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিহত ছাবের আহমেদ চট্টগ্রাম জেলার শিকলভাঙা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি কার্গো বাল্কহেডে লস্কর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আবদুল কাদেরের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১ হাজার মণ লবণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জগামী কার্গো বাল্কহেড এমভি আদনান যাত্রা শুরু করে। নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীর ঠেঙ্গারচর এলাকায় পৌঁছানোর পর নৌযানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে প্রচণ্ড বাতাসের কারণে বাল্কহেডটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা আটজন যাত্রী পানিতে পড়ে যান। পাশের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেদের সহায়তায় তাঁদের সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। তবে চিকিৎসক ছাবের আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, বুধবার সকালে নিঝুমদ্বীপের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে তিনটি ট্রলার ডুবে যায়। জাহাজমারা ইউনিয়নের নাসির মাঝি, জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির মালিকানাধীন এসব নৌযানের মাঝিমাল্লারা অন্য ট্রলারের জেলেদের সহযোগিতায় তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হন। জহির মাঝির ট্রলারের মালিক নিশান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সকালেই হঠাৎ আবহাওয়া বৈরী হয়ে ওঠে এবং সাগর উত্তাল হয়ে পড়ে। এর ফলে নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি তিনটি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারগুলোর মধ্যে দুটি সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে যায়। এসব নৌযানে থাকা মোট ৪৮ জন মাঝিমাল্লাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজমারার নিমতলী ও বয়ারচরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায়ও কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ওইসব ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সার্বিকভাবে, এই দিনের দুর্ঘটনায় মোট ৫৫ জনের জীবন রক্ষা পাওয়া গেলেও একজনের মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।