রাজধানী ঢাকার অদূরে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক প্রয়াণের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার অগ্রগতি ক্রমেই জটিলতর হয়ে উঠছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আদালত কর্তৃক মঙ্গলবার পুনরায় স্থগিত করা হয়েছে, যা এই মামলার ইতিহাসে ৪২তম বিলম্বের ঘটনা।

আজ সোমবার ছিল প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন। কিন্তু মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা, কুতুবপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান, নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের বিচারিক আদালত ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন সূচি নির্ধারণ করে দেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বরকে প্রতিবেদন জমার পরবর্তী তারিখ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপ-পরিদর্শক মুনিয়া আক্তার।

বাদী পক্ষের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ জুলাই সহপাঠী ও বন্ধুদের একটি দলের সাথে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট ভ্রমণে গিয়ে আচমকা নিখোঁজ হয়ে পড়েন তারিকুজ্জামান সানি, যিনি বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের পঞ্চম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। সেদিন সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে তিনি পদ্মার পানিতে তলিয়ে যান। দুর্ভাগ্যবশত, পরবর্তীকালে সেখানেই তাঁর প্রাণহীন দেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরদিনই নিহতের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। অভিযোগপত্রে সানির সঙ্গে সফরকারী মোট ১৫ জন সঙ্গীকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- শরিফুল হোসেন (২৭), সেলিম ইসলাম (২৬), শাকিল আহমেদ (২৫), মো. রুবেল (২৮), সজীব মিয়া (২৬), মো. মনিরুজ্জামান (২৭), মো. নাসির (২৫), মারুফ হোসেন (২৭), আশরাফুল আলম (২৫), জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮), মো. নোমান (২৬), মো. জাহিদ (২৭), এটিএম শাহরিয়ার (২৮), মারুফুল হক (২৬) ও রফিকুজ্জামান (২৭)। প্রারম্ভিকভাবে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে সকল আসামিরাই জামিনে মুক্তি পেয়ে আছেন।