দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক প্রার্থীকে হত্যার মামলায় সাবেক একজন মন্ত্রী ও কুখ্যাত ড্রাগ কার্টেল লস লোবোসের শীর্ষ নেতাসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে দেশটির কৌঁসুলি অফিস।

গত বছর আগস্ট মাসে রাজধানী কিতোতে এক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে গাড়িতে ওঠার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাংবাদিক ও তদন্তকারী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ফের্নান্দো ভিলাভিসেনসিও। মৃত্যুর সময় তিনি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তার এই মৃত্যু দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনী পরিবেশে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।

রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিলাভিসেনসিওর হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী এবং লস লোবোসের প্রধানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। লস লোবোস গ্যাংটি ইকুয়েডরের সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধী চক্রগুলোর একটি, যা মাদক পাচার ও সহিংসতার জন্য কুখ্যাত।

এই মামলায় আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। কৌঁসুলি অফিসের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ভিলাভিসেনসিওর হত্যার পর ইকুয়েডরে অপরাধ ও সহিংসতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদক পাচার ও সংগঠিত অপরাধের কারণে সহিংস ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ আগস্ট কিতোর উত্তরাঞ্চলের একটি স্কুলে নির্বাচনী সমাবেশ শেষে বের হওয়ার সময় সশস্ত্র বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন ৫৯ বছর বয়সী ভিলাভিসেনসিও। ওই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। হামলার পরপরই পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছিল, কিন্তু মূল পরিকল্পনাকারীদের কেউ তখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

এদিকে, ভিলাভিসেনসিওর পরিবার ও সমর্থকরা বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। এই ঘটনা ইকুয়েডরের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং দেশটির নির্বাচনী আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।