ঢাকা ও কলকাতা—দুই শহরেই সমান ব্যস্ততা জয়া আহসানের। সিনেমার শুটিং, প্রচারণা ও নানা কাজের সূত্রে প্রায়ই এই দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর মুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যায় না। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত জয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিণী’। এই সিনেমার প্রচারের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশি এই অভিনেত্রী। সেখানেই ফুটে উঠেছে তাঁর ফিটনেসের আসল রহস্য।

জয়া সাধারণত জিমে যেতে পছন্দ করেন না বা সময় পান না। কোনো সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকে তিনি জিম করা শুরু করেন। তখন পিলাটিজের মাধ্যমে ক্যালরি ঝরান তিনি। অর্থাৎ প্রচলিত ফিটনেস রুটিনের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ নেই। তবে জনপ্রিয় শরীরচর্চা থেকে দূরে থাকলেও মাঠ-ঘাট ও চাষের খেত তাঁকে সুস্থ ও আনন্দিত রাখে। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার ডট কমকে জয়া জানান, ‘জিম করা যে প্রয়োজনীয়, তা আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু নিয়মিত জিম করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। আসলে প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ফিট থাকার চেষ্টা করে। আমি যেমন চাষ করি। সেই সময় মাটি তৈরি থেকে শুরু করে, প্রয়োজন হলে কোদাল দিয়ে মাটি কোপানোর কাজও করি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ার অনুগামীরা জানেন, বাংলাদেশে তাঁর বাড়িতে নানা রকমের সবজির চাষ হয়। খাবারের পাতে সেই সবজি দিয়ে রান্না করা পদই থাকে। ফলে রাসায়নিক সারের আশঙ্কা থাকে না। নিজে চাষ করে খাওয়ার পক্ষপাতী জয়া। তবে মাঝে মাঝে বাইরের খাবারও খান তিনি। পিৎজা তাঁর খুব প্রিয় খাবার। তবে জাঙ্ক ফুডের প্রতি তেমন আকর্ষণ নেই অভিনেত্রীর। বাড়িতে তৈরি সবজি দিয়ে রান্না করা খাবারই তাঁর বেশি পছন্দ। জয়ার ভাষ্যে, ‘যদি জাঙ্ক ফুড খেয়েও ফেলি, তা নিয়ে আমি অপরাধবোধ করি না। কারণ, মাঝে মাঝে মন ও আত্মাকেও খাওয়ানো উচিত বলে মনে করি। খুব বেশি সতর্ক হয়ে গেলে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা উপভোগ করবেন কীভাবে!’

এবার একটু ‘হালকা’ হতে চান জয়া। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘অর্ধাঙ্গিণী’ বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসাও পায়। তিন বছর পর এসেছে সেই সিনেমার সিক্যুয়েল ‘আজও অর্ধাঙ্গিণী’। ‘মেঘনা’ চরিত্রে ফিরেছেন জয়া আহসান। এই চরিত্র প্রসঙ্গে জয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেঘনা চরিত্রটি তো আগে থেকেই তৈরি ছিল। তারপর কিছু সময় কেটে গেছে। শহরটা মেঘনার অনেকখানি হয়ে গেছে। সে পরিবারের একজন অংশ হয়ে গেছে। পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বাচ্চাটা বড় হয়েছে। মেঘনার জীবনে নতুন নতুন আরও চরিত্র এসেছে। যেমন সিনেমাতে নতুন চরিত্রগুলো আসে। সে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। কিন্তু সংসারে এবারও নানা রকমের টানাপোড়েন তৈরি হয়, অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় মেঘনাকে। নতুন সিনেমায় সেটাই উঠে এসেছে।’