পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর পরই তাঁকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার তাঁর দলের একজন মুখপাত্র এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৭৩ বছর বয়সী এই নেতাকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হয়।

এই স্থানান্তরের পেছনে ছিল সুপ্রিম কোর্টের চলতি সপ্তাহের একটি নির্দেশ। আদালতের ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাতে তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাওয়ালপিন্ডি সেনানিবাস এলাকার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। পিটিআইয়ের মুখপাত্র এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে নেওয়ার পর শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বাইরে তাঁর সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দী থাকা এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ পাকিস্তান সরকার সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে। কারাগারে তাঁর স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি অনেকাংশে হারিয়েছেন বলে তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেডিক্যাল রিপোর্টে এমন কোনো শারীরিক জটিলতা পাওয়া যায়নি, যার জন্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। ইসলামাবাদ, পাকিস্তান থেকে ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই ঘটনাপ্রবাহের বিবরণ প্রকাশিত হয়।