ফেনী শহরের মহিপালের মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের বাসায় বুধবার সকালে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কলিং বেল শুনে দরজার কি-হোলে চোখ রাখেন এক নারী। দরজা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন দুই ব্যক্তি। এরপর ওই নারীর চিৎকার চাপা দিতে তার মুখ চেপে ধরেন একজন এবং সদর দরজা বন্ধ করে দেন তারা।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তার জানান, ঘটনার সময় তার ছেলে স্কুলে থাকায় তিনি বাসায় একা ছিলেন। হঠাৎ ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে জানায়, বাসার নিচে তার সন্তানকে জিম্মি করা হয়েছে। পরে তারা ঘরে থাকা ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১২-১৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। বাথরুমে বন্দী অবস্থায় তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। বের হয়ে তিনি দেখতে পান, ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে দুই ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটের সামনে আসেন। একজন সাদা টুপি ও শার্ট পরেছিলেন, অপরজনের পরনে ছিল টি-শার্ট ও নীল ক্যাপ। সাদা টুপি পরা ব্যক্তিটি কলিং বেলে চাপ দিলে দরজা খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গৃহবধূকে ধাক্কা দেন। পরে টি-শার্ট পরা অপরজন ভেতরে ঢুকে গৃহবধূকে আটকে রাখেন। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তারা বাসার দরজা খুলে বের হয়ে যান।
শাহানা আক্তার জানান, বাসার নির্মাণকাজের জন্য প্রায় এক মাস আগে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আলমারিতে রাখা হয়েছিল। এছাড়া তার বোনের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় ছিল, যা প্রথমে দুর্বৃত্তরা খুঁজে পায়নি। পুলিশ এসে সেই স্বর্ণালংকার দেখতে পেয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয়। তার স্বামী সৌদিপ্রবাসী এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে ফিরলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওলি আহাদ জানান, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে গৃহবধূর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত লুটের সময় দুর্বৃত্তরা সেগুলো ফেলে যায়। বাসায় বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে—এমন তথ্য জানা কেউই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূসহ দুজন বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে এসেছিলেন। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাসায় টাকার বিষয়টি পরিবারের বা ভাড়াটে কেউ দুর্বৃত্তদের জানিয়ে থাকতে পারে। সেই অনুযায়ী সন্দেহভাজনদের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। সদর থানায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।




